গ্রিড বিপর্যয় তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ২১:১২
 
হঠাত্ করে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের ঘটনা নাড়া দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। এ বিপর্যয়ের ঘটনা খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের সবকটি গোয়েন্দা সংস্থা শনিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছে বলে দেশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে। এ বিদ্যুত্ বিপর্যয়ে দুর্বৃত্তরা যাতে দেশজুড়ে কোনো ধরনের নাশকতা না করতে পারে, সে জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি নিজ নিজ এলাকায় টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সব ব্যাংক ও বড় স্বর্ণের দোকানে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের কারণে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে দেশের সব ব্যাংকের ভেতরের সিসি ক্যামেরার বেশির ভাগই অচল হয়ে গেছে। এটিএম বুথের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে প্রতিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিকিউরিটি শাখা থেকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না হয়, সে জন্য সারা দেশের পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দেশের সব মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, বিদ্যুত্ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা বহাল থাকবে।
এ দিকে, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তি ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে র্যাবের টহল বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্র ও বিদুত্ বিতরণ কেন্দ্র, দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, গুলশানের কূটনৈতিক জোন, বড় শপিং মল, ব্যাংক ও স্বর্ণের দোকানে বাড়তি টহল দেয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ব্যাংক ও স্বর্ণের দোকানে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোর বেশির ভাগই শনিবার সন্ধ্যার পর অচল হয়ে গেছে। এ কারণে ডাকাত ও চোরদের হামলার আশঙ্কা থেকে শনিবার সন্ধ্যার দিকে দেশের সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অতীব জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক ও স্বর্ণের দোকান বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে এরই মধ্যে সব এটিএম বুথের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। নাশকতার আশঙ্কায় এ সব বুথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া, সব ব্যাংকের শাখায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, রাজধানীর সব থানায় সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। বিশেষ করে গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা, ভিভিআইপিদের বাড়ি এবং বিদ্যুত্ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।