ওয়েস্ট উইন্ডিজের কাছে বিশাল ক্ষতিপূরণ চাইল ভারতীয় বোর্ড

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৪, ২২:০৮
 
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে বড়সড় একটা ক্ষতিপূরণ চাইবে, এটা শুরু থেকেই অনুমান করা হচ্ছিল। অবশেষে সফরের মাঝপথে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ভারত থেকে চলে যাওয়ায় নিজেদের দাবিটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) কাছে পেশ করেছে বিসিসিআই। ক্ষতিপূরণ হিসেবে চার কোটি ডলারেরও বেশী, ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের কাছাকাছি দাবি করেছে ভারতীয় কতৃপক্ষ। সেই সঙ্গে এই বিতর্ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সকল দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে ভারত। ১৫ দিনের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো সাড়া না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দিয়েছে বিসিসিআই।
গত মাসে ভারত সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচটি ওয়ানডে, একটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলার কথা ছিল। কিন্তু ১৭ অক্টোবর ধর্মশালায় চতুর্থ ওয়ানডের পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রত্যাহার করে সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরে যায়। এই সফরে আসার আগ থেকেই বোর্ডের সঙ্গে খেলোয়াড়দের বেতনভাতা নিয়ে যে গোলমাল চলছিল, তার জের ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেয় খেলোয়াড়রা।
এই ইস্যুতে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে না পারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট প্লেয়ারস অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউআইপিএ) এবং ডব্লিউআইসিবির ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে বিসিসিআই।
এ ব্যাপারে ডব্লিউআইসিবি’র প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরনের উদ্দেশ্যে কঠোর ভাষায় লেখা একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিসিসিআই। প্যাটেলের পাঠানো পত্রটি ডব্লিউআইসিবি’র প্রেসিডেন্ট ক্যামেরন এবং বোর্ডের সিনিয়র কর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। ক্যামেরন খেলোয়াড়দের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মেটাতে ত্রিনিদাদে অনুষ্ঠিত ডব্লিউআইপিএর সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই সভার ব্যবস্থা করেন সেন্ট ভিনসেন্টের প্রধানমন্ত্রী রালফ গনসালভস। তিন বছর আগে ক্রিস গেইল এবং ডব্লিউআইসিবি’র বিবাদ মিটিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভো বলেন, বেতন-ভাতার ব্যাপারে ডব্লিউআইপিএ এবং ডব্লিউআইসিবি দ্রুত কোনো জবাব না দিলে তারা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। ব্রাভোদের প্রতি সহানুভূতিশীল প্যাটেল আবার বলেছেন, বিসিসিআই তাদের সমস্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিল এবং তারা এই বিপর্যয় ঠেকানোর প্রচেষ্টা নিয়েছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সরে দাঁড়ানোয় বিসিসিআইয়ের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে চিঠিতে জানান প্যাটেল, ‘এর ফলে বিসিসিআই বড় অংকের আয় হারানোর পথে আছে, সম্মান হারাতে বসেছে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারদের হারানোর হুমকিতে আছে।’—ক্রিকইনফো।