গতকাল শনিবার সন্ধায় বাগমারা উপজেলা যুবলীগের কাউন্সিলে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়, ককটেল বিষ্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনায় কাউন্সিল পণ্ড হয়ে গেছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া ককটেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হচ্ছেন- বাগমারা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (৩০), তার ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা শাহিন আলম (২৪), ঝিকরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন (৩২), হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শা আলম রেজা (৩১) ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুলতান আহম্মেদ। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ মোশারফ হোসেনকে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তবে তার আবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ রানী রিভার ভিউ হাইস্কুল মাঠে উপজেলা যুবলীগের কাউন্সিল উপলক্ষে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিরের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনের জন্য সমাবেশের লোকজন উপজেলা সদর ভবনীগঞ্জ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। এ সময় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে একটি মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় ভবানীগঞ্জ বেইলি ব্রীজের সামনে মিছিলের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। এক পর্যায় পেট্রোল পাম্পের সামনে উপজেলা যুবলীগের দুই সাধারন সম্পাদক প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল আজিজ লিটনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় অনেকেই আত্মরক্ষার্থে দৌঁড়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানেও পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রায় ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরনের ঘটনা ঘটে।
যুবলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন- আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল আজিজ লিটনের লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে লক্ষ করে গুলি বর্ষণ করে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য আমি প্রানে বেঁচে যাই। অপরদিকে আব্দুল আজিজ লিটন-বলেন জাহাঙ্গীর আলমের লোকজনই আমার ওপর প্রথমে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার পক্ষের একজন গুলিবিদ্ধও হয়েছে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়দা খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- এতো বড় একটি রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় তাৎক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে এবং অবরুদ্ধ জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে বাড়ীতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেও ওসি দাবি করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন- বিশৃঙ্খলার কারণে যুবলীগের কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে।
