প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ নেই

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৪, ১০:৪৬
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সময়মত আন্দোলনের ডাক দিবো, যে কর্মসূচি দিবো, তা পালন করতে হবে। আমি জীবনের শেষ সময়ে বলতে চাই, আমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ নেই। শুধু জনগণের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে চাই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ঘরে ফিরবো।
গতকাল নাটোরে নবাব সিরাজ উদ দৌলা সরকারী কলেজ মাঠে জেলার ২০ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত জনসভায় প্রায় ১ ঘন্টা বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে  খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। উপজেলা নির্বাচনে ভোর তিনটার মধ্যে তারা বাক্স ভর্তি করেছে। ভোট কেন্দ্রে আসতে দেয়নি। যেগুলোতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, আমাদের প্রার্থিরা পাস করেছে। সরকার যদি মনে করে তারা অনেক বেশি জনপ্রিয়, তাহলে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ভোট দেন দেখেন রায় কী হয়? ভোটের অধিকার ফেরাতেই আমরা আন্দোলন করছি। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না।
তিনি বলেন, এরশাদকে হটিয়েছি, গুলি বন্ধ করেন, দেখেন আন্দোলন কাকে বলে দেখিয়ে দিব। বিএনপি প্রধান বলেন, ‘ডিবি পুলিশ এখন কন্টাক্ট কিলিং করছে। তাহলে মানুষ কীভাবে নিরাপদে থাকবে। যাদের কাছে মানুষ নিরাপত্তার জন্য যাবে তারাই হচ্ছে হত্যাকারী, তারাই হচ্ছে কিলার।
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। শিক্ষা বোর্ডগুলোতে দুর্নীতির মহোত্সব চলছে। পাসের হার বাড়িয়ে দেয়ার ফলে গণহারে জিপিএ ৫ পাচ্ছে। ভালো ছাত্ররা নিরুত্সাহিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এরা পাস করে না। ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হউক এরা তা চায় না। বেশি নম্বর না দেয়ায় ৪৭ জন শিক্ষককে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। তাহলে আমরা কোথায় যাচ্ছি।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগ নেই। গ্যাস, বিদ্যুত্ নেই। তাহলে কেন বিনিয়োগ হবে। ঘরে ঘরে বেকারত্ব বাড়ছে। আজ বিদ্যুত্ নেই, ঢাকায়ও নেই, এখানেও নেই। বিদ্যুত্ আসে বিদ্যুত্ যায়।
তিনি বলেন, গার্মেন্ট শিল্প ধ্বংসের পথে। জিয়া গার্মেন্ট শিল্প শুরু করেছিলেন, গার্মেন্ট শিল্পে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান হয়েছিল। এ খাত রপ্তানিতে বিশ্বের এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছে। এখন চারে গেছে। এর প্রতিবাদ করলে সরকার ক্ষেপে যায়। আমাদের সরকার মিছিল, মিটিং করার জায়গা দেয় না। মিছিল করলে গুলি করে। নেতাদের জেলে ভরে। বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নেই যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়নি। এই সরকার টিকে আছে মামলা হামলা করে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশ ভরে গেছে লুটপাটে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে লুটপাট হচ্ছে না। এই লুটপাটের খবর খুব সামান্যই আসে পত্রিকায়। কারণ মিডিয়াগুলোর গলা চেপে ধরেছে সরকার। মাহমুুদুর রহমানকে মিথ্যা অজুহাতে জেলে ভরেছে। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আমার দেশ বন্ধ করেছে, এই পত্রিকাটি অন লাইনে তারা চালাতো। সেটাও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে তারা ছাই করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, এদেরকে মানুষ স্বৈরাচার বলে, আমি বলব, স্বৈরাচার নয়, নব্য হিটলারের জন্ম হয়েছে। হিটলারী কায়দায় তারা মানুষ মারছে, গুম করছে।
তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পান। কারণ তাদের পরিণতি কি হবে তা জানে। আমরা বোমাবাজি, গাড়ি পোড়াই না, এগুলো করে তারাই।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করলে গুলি চালানো হয়, পুলিশকে বলি- এই সরকারের কথায় কেন গুলি চালান, আপনাদের মা-বোন, ভাই, ছেলে আছে তারাও তো বিপদে পড়তে পারে । সরকার পরিবর্তন হলে আপনাদের কী হবে? কথায় কথায় গুলি চালানো বন্ধ করেন।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমাদের আজকের সমাবেশ টেলিভিশনগুলো যাতে সরাসরি সম্প্রচার করতে না পারে সেই জন্য বিদ্যুত্ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সারা দেশে বিদ্যুত্ নেই।
বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দল দেখে নয়, মামলার মেরিট দেখে রায় দিন। সরকারকে ভয় পাবেন না। আল্লাহর কাছে একদিন ফিরে যেতেই হবে। সেটা মনে রেখে বিচার করুন। আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। অভিশংসন আইনের ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
খালেদা জিয়া বলেন, দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন নয়, নাম হওয়া উচিত দুর্নীতি কমিশন। আওয়ামী লীগ নেতাদের দায়মুক্তি দিচ্ছে তারা। সমস্ত দুর্নীতিবাজরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে। আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। ব্যাপক জনসমর্থন আছে।
খালেদা জিয়া বলেন , আন্দোলন করতে হবে। নাটোরের জনগণকে এখনই বলতে চাই না। সময় মত যখন ডাক দেব, যে কর্মসূচি দেব, তা পালনের প্রসু্ততি নিন।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন— জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এলডিপির ড. রেদওয়ান আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতারা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে উত্খাত করতে হবে।
মুজিবুর রহমান বলেন, মাওলানা নিজামীর ফাঁসির রায়ের মত আরেকটি রায় হলে গোটা সপ্তাহ জুড়ে হরতাল চলবে।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, নাটোরের মানুষ বিএনপির সঙ্গেই আছে। যেকোনো কর্মসূচি তারা পালন করে অতীতে যেমন প্রমাণ করেছে, আগামীতেও দেখিয়ে দিবে।