বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসেরের (প্রিন্স মুসা) বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে অনুসন্ধান কর্মকতা পরিবর্তন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নতুন করে আমলে নিয়ে দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এর আগে ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকে জমা পড়া দুদকের উপপরিচালক শেখ ফাইয়াজ আলম অনুসন্ধান করে আসছিলেন। কমিশন অনুসন্ধানের গতি আনতে কর্মকর্তা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরের বিষয়ে নানা অসঙ্গতি ধরা পড়ে। ২০১১ সালের ২৪ জুন তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে তার নো ইউর কাস্টমার (কেওয়াইসি) ফর্মের সব তথ্য জানতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ড. মুসার সব ব্যাংকের স্থায়ী, চলতি, সঞ্চয়ী, ডিপিএস, এসপিডিএস, এফডিআর বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে হিসাব পরিচালিত হয়েছে বা হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে তথ্যসহ হিসাব খোলার দিন থেকে হালনাগাদ হিসাব বিবরণী দাখিল করতে তফসিলিভুক্ত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল। দুদকের চাহিদার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব হিসাব তলব করলেও পরে রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সূত্র আরো জানায়, ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুযায়ী মুসা বিন শমসেরই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার মূল সম্পত্তি প্রায় ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের উপরে। তিনি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিত। ড. মুসা ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে অনুদান দিতে চেয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। লেবার পার্টির টনি ব্লেয়ার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য তার পাঁচ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
