প্রয়োজন ফুরিয়েছে তাই ধীরে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৪, ০০:০৯

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দি ইকোনমিস্ট’ এর সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, একাত্তরে সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার প্রয়োজন শেষ হয়ে আসছে। এমনকি এ কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে বিচারকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়ায়          ঢিলেঢালা ভাবও দেখা যেতে পারে। এখন শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালকে খুব ধীরগতিতে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে নিজেকে একজন বিজ্ঞ, বৈধ ও মধ্যপন্থী নেতা হিসেবে তার পরিচিতি তুলে ধরার পথ বেছে নিতে পারেন। সর্বোপরি, তিনি চান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনামকে জোরালো করতে। চলতি মাসে বাংলাদেশ জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে একটি আসন জিতেছে।

শনিবারের সংখ্যায় ‘পলিটিক্স এন্ড দ্য পাস্ট ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের নিবন্ধে বলা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রাণপণে চেষ্টা করছে স্বাধীনতা যুদ্ধকে মানুষের মনে জাগ্রত রাখতে। একাত্তরে হত্যাকাণ্ডে মূল হোতাই ছিল পাকিস্তানি সেনারা। কিন্তু পাকিস্তানের এই হোতারা সব সময়ই বিচারের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকেছে। তবে তাদের দোসর জামায়াত নেতা গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্যরা এখন বিচারের সম্মুখীন।

নিবন্ধে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় ও তা কার্যকর করা রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথিদের সফরকালে শীর্ষস্থানীয় অভিযুক্তদের ফাঁসি দেয়া হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া শাস্তি কমানোর মতো আরো ঘটনা ঘটতে পারে। এ সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন শেখ হাসিনা। সফরে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে সৌদি আরব এই বিচারকে কীভাবে দেখছে সেটা জানার চেষ্টা করেছেন তিনি। এসব রাষ্ট্রের শাসকরা চান না নিজামী বা অন্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হোক। তাই ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়ায় ঢিলেঢালা ভাবও দেখা যেতে পারে।