সরকার যেদিন চাইবে সেদিনই ফাঁসি

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৪, ০০:১২

সরকার যেভাবে এবং যেদিন চাইবে সেদিনই জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে। প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও জেল কোডের বিধান যুদ্ধাপরাধের দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা আন্তর্জাতিক অপরাধসূমহ ট্রাইব্যুনালস (আইন) ১৯৭৩ এর ২০(৩) ধারায় বলা আছে, ‘এই আইনের অধীন প্রদত্ত দণ্ড কার্যকর হইবে সরকারের আদেশাবলী অনুযায়ী।’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গতকাল কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রশ্নে বিভক্ত রায় দিয়েছেন। তবে চারজন বিচারকের মধ্যে তিনজনই মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নে একমত হয়েছেন। বিভক্ত রায় হওয়ার কারণে চার বিচারপতির রায়ের পর ভিন্নমত দেয়া বিচারপতি তার রায় লিখবেন। তারপর দুটি রায় একত্রে প্রকাশিত হবে।
প্রচলিত আইনে ফৌজদারি কার্যবিধি ও জেল কোডের বিধান অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জেল কোডের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার জন্য আসামিকে সাত দিনের সময় দেয়া হয়। এই সাতদিন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি যদি ফাঁসি কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ বা দণ্ড মওকুফ বা হ্রাস না করেন তাহলে কারা কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হয়। কিন্তু প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও জেল কোডের বিধান যুদ্ধাপরাধের দণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কেননা আন্তর্জাতিক অপরাধসূমহ ট্রাইব্যুনালস (আইন) ১৯৭৩ একটি বিশেষ আইন। প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ আইনের চেয়ে বিশেষ আইন প্রাধান্য পাবে। ঐ আইনের ২০(৩) ধারায় বলা আছে, ‘এই আইনের অধীন প্রদত্ত দণ্ড কার্যকর হইবে সরকারের আদেশাবলী অনুযায়ী।’ অর্থাত্ রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন যেদিনই নাকচ করবেন সেদিন থেকে যে কোন দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। কিন্তু কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। আসামি পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিভিউ পিটিশন দাখিলের সুযোগ কামারুজ্জামানের রয়েছে।

একই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিলো কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় প্রকাশের পর। সে সময় রিভিউ পিটিশন দাখিলের অনুমতি চেয়েছিলেন কাদের মোল্লা। একই সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের উপর ফাঁসি কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। এ নিয়ে দু’দিন শুনানির পর কাদের মোল্লার আবেদন নাকচ করে দেয় আপিল বিভাগ। কিন্তু এ সংক্রান্ত রায় প্রায় এক বছরেও প্রকাশ পায়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঐ রায় যদি এতদিনে প্রকাশ পেত তাহলে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা নিয়ে আজকে যে বিভ্রান্তি তার অবসান হতো।