প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শনিবারের সারাদেশে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন করবে সরকার। বিদ্যুত্ বিভ্রাট হতে পারে, তবে এক সঙ্গে সারাদেশে বিদ্যুত্ বিভ্রাট কেন হলো তা আমরা খুঁজে বের করবো। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে তিনি অনেক জঘন্য কাজ করেছেন। তার নির্যাতনের শিকার একটা গ্রামের নামই রাখা রয়েছে ‘বিধবা গ্রাম’।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররাফ হোসেন ভূঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২০১৫ সালের জন্য ২৩ দিন সরকারি ছুটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি ছুটির মধ্যে জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ১৫ দিন সাধারণ সরকারি ছুটি এবং অবশিষ্ট ৮ দিন নির্বাহী আদেশে মোট এই ২৩ দিন সরকারি ছুটি পালিত হবে। অবশ্য ১৫ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ৮ দিন ছুটির মধ্যে ৩ দিন সাপ্তাহিক ছুটি পড়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হিজরী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে ২০১৫ সালে ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি হবে দুইদিন, যথাক্রমে ৪ জানুয়ারি ও ২৪ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, বাংলা পঞ্জিকা, ধর্ম মন্ত্রণালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং চলতি বছরের ছুটির তালিকা হিসাব করেই নতুন বছরের জন্য ছুটির এ তালিকা প্রণয়ন করা হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশি মঞ্জুরির প্রতিশ্রুতি ও অবমুক্তির বিষয় অবহিত করা হয়। এতে বলা হয় এখনো ১৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাইপলাইনে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দাতাদের কাছ থেকে ৮৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবহূত হয়েছে। মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি বাড়ছে। এর কারণ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি বাড়ছে। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রকল্প বিলম্বের পাঁচটি কারণ বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো জনবল নিয়োগে বিলম্ব, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, ডিপিপি/পিপিপি প্রণয়নে বিলম্ব, পণ্য ও সেবা সংগ্রহে বিলম্ব ও উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ গ্রহণে দেরি হওয়া। এসব প্রতিকূলতা দূর করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরো ৬টি বিষয় অবহিত করা হয়। এগুলো হলো গত ১৬-১৭ অক্টোবর ইটালির মিলানে অনুষ্ঠিত দশম এশিয়া ইউরোপ মিটিং (আসেম) এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ, গত ১৮-২০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের তৃতীয় সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ, গত ৪-৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অনুষ্ঠিত টেকসই অর্থায়নের ওপর অনুষ্ঠিত শীর্ষ সভায় অর্থ প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ, গত ২৮-৩১ জুলাই বেনিনে অনুষ্ঠিত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ এবং গত ১৪-১৮ অক্টোবর গম আমদানির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের রাশিয়ান ফেডারেশন সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ।
বিবাহ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মন্ত্রিসভার সদস্যদের মিষ্টিমুখ করিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে চা বিরতির সময় সিঙ্গাড়ার সাথে মিষ্টিও দেয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মিষ্টির কারণ জানতে চান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা রেলপথ মন্ত্রীর বিয়ের মিষ্টি। হাস্যোজ্জ্বল প্রধানমন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, মিষ্টি ঢাকার, না কুমিল্লার। রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ঢাকার। প্রধানমন্ত্রীর বলেন, ঢাকার মিষ্টি খাব না, কুমিল্লার মিষ্টি চাই।