জেলহত্যা দিবস পালন

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৪, ০১:০৮

গভীর শ্রদ্ধা-ভালবাসায় শহীদদের স্মরণ, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ যথাযোগ্য মর্যাদায় গতকাল সোমবার জেল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। জাতি স্মরণ করেছে তার চার সূর্য সন্তানকে। দিবসটি পালনে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতিকে সম্মান জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতার কবরেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবর্গ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম  সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালোব্যাজ ধারণ করা হয়। সকাল পৌনে ৯টায় কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর সন্তান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, জেল হত্যা মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দিতে খুনিদের আশ্রয়দাতা রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, যে সকল দেশ জেল হত্যা মামলার খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে, আমি তাদের কাছে দাবি করব, এদের বাংলাদেশে ফেরত দেয়া হোক।
বর্তমান সরকারের আমলেই পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এ সরকারের আমলেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে, জেল হত্যা মামলাও সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং একাত্তরের ঘাতকের বিচার হচ্ছে এবং হবে। শেখ হাসিনার আমলে আমরা দণ্ডিত, খুনিদেরকে দেশে  ফেরত আনতে পারবো এবং দণ্ড কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি নিদর্শন গ্যালারি এবং চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।

সকালে বনানীতে জাতীয় তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নির্দেশেই জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। একই খুনির নির্দেশে ইতিহাসের বর্বরতম এ দুই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। আশরাফ মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের কোন আভাস বা ইঙ্গিত সম্পর্কে আমরা কোন কিছু জানি না। তিনি বলেন, যখন সময় হবে তখন নির্বাচন হবে। এ বিষয়ে কোন আভাস বা ইঙ্গিতের প্রয়োজন নেই। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।