২৪ ঘণ্ট না যেতেই আশুগঞ্জ সার কারখানায় ফের উৎপাদন বন্ধ

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৪, ১৪:২৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ইউরিয়া সার কারখানা চালুর ২৪ ঘণ্টা না যেতেই আবারো সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানার এ্যামোনিয়া প্লান্টের সিঙ্গেস কম্প্রেসারে ক্রটির কারণে পানির অভাবে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় গত সোমবার সকাল সাতটায় তরিঘড়ি করে সার উৎপাদন চালু করে কর্তৃপক্ষ। কারখানার এমন যান্ত্রিক ক্রটির কারণে প্রতিদিন দেড় কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ১৪‘শ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কারখানার তিনটি ইনটেক পানির পাম্পই অচল হয়ে পড়ায় গত শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার প্রকৌশলীরা তিনটি পাম্পের মধ্যে একটি মেরামত করে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় গত সোমবার সকালে পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু করে। কিন্ত কারখানা চালু করার ২৪ ঘণ্টা না যেতেই গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এ্যামোনিয়া প্লান্টের সিংগ্যাস কম্প্রেসারে ক্রটির কারণে ফের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
চলতি অর্থ বছরে কারখানার সাড়ে তিন লাখ টন উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে বিসিআইসি। বিভিন্ন ক্রটির কারণে কারখানা বারবার বন্ধ থাকায় চলতি অর্থ বছরেও লক্ষ্য মাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান মো. ইকবাল কারখানা পরিদর্শন করেছেন। পরে কারখানার সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় দ্রুত মেরামত শেষ করে উৎপাদন চাল করার নির্দেশ দিয়েছেন। 
কারখানার মহা-ব্যবস্থাপক (বানিজ্যিক) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, যান্ত্রিক ক্রটির কারণে কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানার নিজস্ব প্রকৌশলীরা ক্রটি মেরামত শুরু করেছে। পুনরায় কারখানার উৎপাদন চালু করতে ৫/৬ দিন লাগতে পারে। তবে কারখানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ থাকায় সার সঙ্কটের কোন আশঙ্কা নাই।
মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ) প্রকৌশলী ওমর খৈয়াম জানান, পানি স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ ছিল। ইতিমধ্যে দুইটি পাম্প সচল করা হয়েছে। অপর পাম্পটিও সচল করার চেষ্টা চলছে।