মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৪, ২০:২৭
 
 
 
 
এবার বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকে পর্যবেক নিয়োগ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটিতে অনিয়ম ও আর্থিক সূচকের ক্রমাবনতি ঠেকাতে বুধবার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাসুদ বিশ্বাস পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সব বৈঠক ছাড়াও নির্বাহী ও অডিট কমিটির বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকবেন। এর আগে সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক নিয়োগ দেয়া হয়।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশে কার্যরত ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে এ নিয়ে ছয়টি ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষক দেয়া হলো। ন্যাশনাল ব্যাংকের আগে ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় রাষ্ট্রীয় মালিকানার বেসিক ব্যাংকে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক থেকে পরিবর্তিত আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে পর্যবেক্ষক রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের করপোরেট গভর্নেন্সের দুর্বলতা, আর্থিক সূচকের ক্রমাবনতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বিবেচনায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হলো। মাসুদ বিশ্বাসকে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে। তার দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে এখন থেকে প্রতিটি পর্ষদ বৈঠকের অন্তত তিন কার্যদিবস আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পর্ষদ বৈঠকে উত্থাপিত সব এজেন্ডা (আলোচ্যসূচি) পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি ও অডিট কমিটির বৈঠকেও উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মতামত তুলে ধরবেন বলে এতে উল্লেখ রয়েছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তিনজন বহিরাগতের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে গত বছর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পরিদর্শনে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম আমানুল্লাহর বেনামী প্রতিষ্ঠানে সিএসআর (করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) থেকে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়ে। এর বাইরে বিভিন্ন শাখায় ঋণ অনিয়মসহ বেশ কিছু ত্রুটির কারণে ব্যাংকটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির সাত হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৩৮১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ ঋণ খেলাপি।