কিছু স্থানে মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন

হরতালের চতুর্থ দিনে রাজধানীতে প্রাইভেটকার ছাড়া সব গাড়ি চলেছে

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৫৭
 
 
 
 
 
 
 
জামায়াত ইসলামীর ডাকা পাঁচ দিনের হরতালের চতুর্থ দিনে বুধবার প্রাইভেট কার ছাড়া সব গাড়িই চলাচল করেছে ঢাকার রাস্তায়। হরতাল চলাকালে কিছু স্থানে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ দিকে জামায়াত ইসলামীর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুধবারের হরতালে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকদের মিছিলে পুলিশের হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।
বুধবারের হরতালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস না হলেও অন্যান্য কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক। নগরীর রাস্তায় যান চলাচলের ভিড়ে বোঝার উপায় ছিল না হরতাল চলছে। সকালে প্রাইভেটকার কম চলাচল করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বৃদ্ধি পায়। গণপরিবহনের চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। দূরপাল্লার বাস চলাচল না করলেও ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেনদেন ছিল স্বাভাবিক।
রাতে ফার্মগেটে শ্যামলী পরিবহনের একটি ছোট বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। দুপুরে রাজধানীর, কাওরানবাজান, শাহবাগ, এলিফ্যান্টরোড, কাটাবন, নীলক্ষেত, ধানমন্ডি, আসাদ গেট, ফার্মগেট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে— রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। প্রতিটি মোড়েই ছিল যানবাহনের চাপ। রাস্তার পাশের দোকান এবং বিপণীবিতানগুলো ছিল খোলা।
হরতালের সমর্থনে জামায়াতের তত্পরতা বলতে ছিল কয়েকটি এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও বিভিন্নস্থানে ককটেল বিস্ফোরণ। গুলশানের শাহজাদপুর ও বংশালের নয়াবাজার এলাকায় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। নয়াবাজার-সংলগ্ন সড়কে সন্ধ্যায় ২০-২৫ জন শিবিরকর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ মিছিল থেকে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অন্য দিকে, শাহজাদপুরের প্রগতি সরনিতে হরতালের সমর্থনে বের হওয়া একটি মিছিল থেকে তিন-চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে ডেমরা, বাসাবো, মগবাজার, বনানী এলাকায় এ সব মিছিল হয়। তবে মিছিল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি বলে  জানিয়েছে পুলিশ।
জামায়াত ইসলামীর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বুধবারের হরতালে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্নস্থানে হরতালের সমর্থকদের মিছিলে পুলিশের হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।  দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরপাকড় চালাচ্ছে। তার পরও জনগণের অংশগ্রহণে হরতাল সফল হয়েছে। শুক্রবার ৬টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালনে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।