ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় বুধবার পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে আরো ২৭৮টি বসতি নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আপত্তির মুখে এই সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয় বারের মতো এ ধরনের পদক্ষেপ নিল ইসরায়েল। এ দিকে, গাজায় হামলার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। খবর এপি ও সিনহুয়ার।
বুধবার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুসারে জেরুজালেমের পৌর কমিটি আরো ২৭৮টি বসতি নির্মাণ করবে। বসতিগুলো নির্মিত হবে পূর্ব জেরুজালেমের ‘সবুজ রেখা’ ছাড়িয়ে, যা ১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইসরাইলের দখলে আসে। এগুলোর মধ্যে ২১৬টি রামাত স্লোমোর আশপাশে এবং ৬২টি হার হোমাতে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে এ সপ্তাহেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ৫০০ বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়ার কথা জানান। বেশ কিছ ুদিন স্থগিত রাখার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বসতিগুলোর নির্মাণকাজ চালু করার নির্দেশ দেন। ইসরায়েলের এ ধরনের পদক্ষেপে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ার পথে অধিকৃত ভূমিতে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে প্রধান বাধা বলে মনে করে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। গত জুলাই-আগস্টে গাজায় হামলার সময় ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি। ৫০ দিনব্যাপী ওই হামলায় ইসরায়েল নির্মমতার পরিচয় দিয়েছে বলেও এতে মন্তব্য করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে প্রচুর সংখ্যক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য। অ্যামনেস্টির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক প্রধান ফিলিপ লুথার বলেন, ‘গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি-ঘরের ওপর পর্যায়ক্রমিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের মাধ্যমে ইসরায়েল যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করেছে।’ তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একে হামাস-প্রভাবিত প্রতিবেদন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
