টাকার অভাবে চার বছর ধরে মৃতদেহ হিমাগারে

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৫২
 
 
টাকার অভাবে চার বছর ধরে রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ হিমাগারে পড়ে রয়েছে। তিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৭ নং বড়কুল ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণছোয়া গ্রামের হাজী বাড়ীর মৃত আবদুল মজিবের ছেলে। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে।
 
মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১৬ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনের মানামা সিটির সালমানিয়া হসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান রফিকুল ইসলাম। কাগজ-পত্র (আকামা) ঠিক না থাকায় চার বছর ধরে রফিকুল ইসলামের মৃতদেহ ঐ হসপাতালের হিমাগারে পড়ে রয়েছে।
পরিবাবের পক্ষ থেকে বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ এম্বাসিতে বহুবার যোগাযোগ করা হয়। তবে ‘ঘুষ’ দিতে না পারায় আজও তার মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে মৃতের পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ১৬ বছর ধরে প্রবাসে কাজ করেছিলেন। প্রায় আট বছর আগে তিন মাসের ছুটিতে এসেছিলেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ছেলে-মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফরম-ফিলাপের জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠায়। তিনি ২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মী পলাশ, ফারুক ও বাদল রাতেই তাকে সালমানিয়া হসপাতালে ভর্তি করায়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় রফিকুল ইসলাম বুধবার দিবাগত রাত ৪ টায় (১৬ ফেব্রুয়ারি) মারা যায়। মৃত রফিকুল ইসলামসহ সহকর্মীদের কাগজ-পত্র না থাকায় বিপাকে পড়েন সবাই। পরে হাসপাতালে রফিকুল ইসলামের মৃতদেহ রেখে আটকের ভয়ে  সহকর্মীরা পিছু হটেতে বাধ্য হয়।
 
মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী লিলুফা বলেন, ‘আমার ভাই আলম। সেও ঐ দেশে থাকতো। তার দুলা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে চাঁদা উঠাইছিলো। চাঁদার টাকা বাংলাদেশী এম্বাসীতে ঘুষ দেয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশী এ্যম্বাসীতে ৯’শ নাকি ১১’শ দিনার ঘুষ চাইছিল আমার মনে নাই। তবে এই ঘুষের টাকা না দিতে পারায়, স্বামীর মৃতদেহ দেখতে পাইনি।’ 
 
লিলুফা বেগম বলেন, ‘আমাগো টাকা নাই, বড় লোকজন নাই। আবার নাকি কাগজপত্র ঠিক নাই। কেডায় আমাগো মনে একটু সান্ত্বনা দিবো কওন।?’
 
ছোট ছেলে শাহাদাত বলেন, বাবাকে ছোট বেলায় দেখেছি। চেহারাটা মনে পড়ছে না। বাবার মৃতদেহ হিমাগারে পড়ে রয়েছে। আমাদের সাধ্য নাই বলেই বাবার মৃতদেহটা দেখা হচেছ না।
 
প্রতিবেশী মুসা সাত্তার পলাশ। তিনিও রফিকুল ইসলামের সাথে বাহরাইন ছিলেন। যখন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন, তখন হাসপাতালেও গিয়েছিলেন। তবে মারা যাবার পর কাগজ-পত্রে গরমিল থাকায় সেখানে মৃতদেহ রেখে চলে আসতে বধ্য হন। তারও আকামা ছিলো না পরে ১৫ দিন জেলখেটে দেশে ফিরে আসেন।
 
তিনি বলেন, ঐখানে বাংলাদেশী এ্যম্বাসী কাজ করে না। তারা একটু আন্তরিক হলে এতো বছর লাশটি পড়ে থাকতো না। চার বছর পার হয়ে গেল। ১২ বছর পর রফিক ভাইয়ের মৃতদেহটি দাফন করে ফেলবে। এখনো সুযোগ আছে সরকার যদি পদক্ষেপ নেয়। তাহলে রফিক ভাইয়ের পরিবারবর্গ কিছুটা সান্ত্বনা পাবে।