যতদূর চোখ যায়, পাহাড়ের গায়ে থরে থরে সাজানো শুধু কমলার বাগান। গাঢ় সবুজ পাতার আড়ালে কাঁচা-পাকা কমলার উঁকিঝুঁকি। পাহাড় আর টিলাগুলো যেন সেজেছে সোনালী বুটিতোলা পান্না-সবুজ রঙের শাড়িতে। এখন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লাল ছড়া, কচুরগুল, হাওয়াছড়া, রূপাছড়া, বেলাবাড়ী, লাটিঠিলা, লাটিছড়া, কালাছড়া, লালছড়া, জরছড়া, শুকনাছড়া, ডোমাবাড়ি, জামকান্দি, ছোট ধামাই, জায়ফরনগর ও পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া ও বড়লেখায় গেলে কমলা বাগানের এই দৃশ্য সবার মন কেড়ে নেবে।
চাষিরা জানালেন, কমলার সাইজ অনুযায়ী তারা একহালি কমলা ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। অগ্রহায়ণ মাসই কমলা পুরোপুরি পাকার সময়। এখন কিছু কিছু পাকলেও বেশিরভাগই কাঁচা। কাঁচা কমলা তারা বিক্রি করে দিচ্ছেন অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই। তার কারণ হিসাবে কৃষকরা জানালেন, আর কিছুদিন গেলে নাকি ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা কমলায় বাজার সয়লাব হয়ে যাবে। তখন কমলার দাম পড়ে যায়। তাই দাম পেতে এখন তড়িঘড়ি কাঁচা কমলাই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে তাদের। সেকেলে পদ্ধতির চাষাবাদের কারণে তাদের কমলার আকার, রঙ ভালো হয় না। শুধু একারণেই তাদের কমলা আর্ন্তজাতিক বাজারেও রফতানি করা যায় না। গান্ধী পোকা ও পাতা হলদে হয়ে গাছ মরে যাওয়া রোগসহ প্রতিবছরই তাদের নানা সমস্যা পোহাতে হয়। অনেক নতুন রোগ সম্পর্কে স্থানীয় কৃষি বিভাগও জানে না, তাই তারা কোন সমাধানও দিতে পারে না। তাই চোখের সামনেই ধীরে ধীরে ফলন দেয়া গাছ মরে যায়। সবসময় কৃষি বিভাগের লোকদের পাওয়াও যায় না। তারা সরজমিনে আসেন না–এমন অভিযোগও রয়েছে অনেক চাষির। এমন অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষি বিভাগের লোকজন। তারা জানালেন, লোকবল সংকটের মধ্যেও তারা চাষিদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। কমলা চাষিরা জানান, তারা খাস জমিতে বসবাস করেন বলে কোন ব্যাংক বা সংস্থা থেকে ঋণ সহায়তা পান না। তাই আর্থিক সংকট থাকার কারণে চাষিরা ফলন আসার আগেই এক বা দুই বছরের জন্য তাদের বাগান বা বসত বাড়ির গাছ কম মূল্যে আগাম বিক্রি করে দেন পাইকারদের কাছে। এতে বিরাট আর্থিক ক্ষতি হয় তাদের। লাভবান হন ফড়িয়া ও দালালরা। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এবং কমলা বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট বড় বাজার না থাকায় তারা প্রতিবছরই এ ক্ষতির শিকার হন। সিলেট অঞ্চলের কমলার কদর দেশের র্সবত্রই- তাই এখনাকার কমলার চাহিদাও ব্যাপক এমনটি জানালেন, শরিফ উদ্দিন ও হামিদ মিয়া নামের দুই পাইকার। এখানকার কমলা গাড়ি বোঝাই হয়ে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছায়।
