বিএনপির জন্ম পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নীল নকশার ফলশ্রুতি। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযুদ্ধের ছদ্মাবরণে পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন। আর তার পুত্র তারেক রহমান বর্তমানে আইএসআইয়ের মুখপাত্র হিসেবে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাই তারেক রহমানকে অনতিবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো প্রয়োজন।
শুক্রবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, পাকিস্তানের পদলেহী, ফেরারী আসামি ও বিকৃত মানসিকতার অধিকারী তারেক রহমান সম্প্রতি যে উক্তি করছেন তা ধৃষ্টতাপূর্ণ ক্ষমাহীন অপরাধ। তার কুৎসিত মিথ্যাচার একটি গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তারেক রহমান মূলতঃ স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ক্রীড়ানক হিসেবেই আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে চায়। আইএসআই’র এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানি প্রভুদের শিখানো বুলিই তিনি উচ্চারণ করেছেন। বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না করে দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান।
হাছান মাহমুদ বলেন, তারেক রহমান অযাচিত-ভিত্তিহীন-উস্কানিমূলক অশোভন-অরুচিকর রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার বহির্ভূত, শঠতামূলক বক্তব্য দিয়ে অসৎ রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি হাসিলের নির্লজ্জ প্রয়াস চালাচ্ছেন। তার এই ধরনের বিদ্বেষ প্রসূত বানোয়াট বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করছে। একই সাথে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী তারেক সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এক সময় বলেছিলেন, আগে শুনতাম কুকুরে লেজ নাড়ায়, আর এখন দেখি লেজে কুকুর নাড়ায়। কর্নেল অলি আহমেদ তারেক সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘মা অর্থাৎ খালেদা যদি ভাল হয় তাহলে পুত্র তারেকও ভাল হতে বাধ্য; কিন্তু মা-বেটা দুটোই খারাপ’।
হাছান মাহমুদ বলেন, তারেক রহমান প্রকৃতপক্ষে একজন কাপুরুষ, তিনি ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আর রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি নাকি বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি কালো দিবস এবং সৈনিক হত্যা দিবস। সেদিন জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা, মেজর হায়দারসহ বহু সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, জোট সরকারের আমলে খালেদা জিয়া ও তার পরিবার বিশেষ করে খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছা ব্যবহারের কথা এদেশের মানুষ কখনো ভুলে যায়নি। বিশ্বের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীমের সঙ্গে তারেক রহমানের দুবাই বৈঠকে এই মাফিয়া ডনের সহযোগিতায় দুবাইয়ে কোটি কোটি ডলার দিয়ে বিশাল অট্টালিকা কেনার কথা ২০০৭ সালে ঢাকার একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। জনশ্রুতি রয়েছে দাউদ ইব্রাহীমের মেয়ের বিয়েতে বহু মূল্যে ডায়মন্ড উপহার দিয়ে তারেক রহমান মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
