দেড় ঘন্টায় ছাই ২ লাখ ৪২ হাজার কম্বল

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কম্বল কারখানায় আগুন

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৪, ২০:৪৫



ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন কম্বল কারখানায় শুক্রবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই লাখ ৪২ হাজার কম্বল পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ধারনা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুন নেভানোর সময় ধোঁয়ায় রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক কারখানা শ্রমিক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তিন নম্বর গেটের ভেতরে টিনশেট  ভবনে কারাগারটি স্থাপিত এবং ডিআইজ প্রিজন (ঢাকা) অফিস সংলগ্ন। কারাখানার মালিক কারাগার কর্তৃপক্ষ হলেও ‘কাজল উলেন মিলস লিমিটেড’ নামে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল চারটা ২০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে কম্বল কারখানার গোডাউনে। পরে তা দ্রুত কারখানার অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দাউ দাউ করে না জ্বললেও কারাখানার গোডাইন থেকে ধোঁয়া বের হয়ে তা চার দিকে আচ্ছন্ন  হয়ে যায়। তবে কারখানাটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কয়েদীদের রাখা হয় যে অংশে তার প্রাচীরের বাইরে। ফলে এই আগুন কারাগারে বন্দীদের মধ্যে  কোন প্রভাব ফেলেনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে সদর দফতর, লালবাগ ও পলাশী স্টেশন থেকে  ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তারা দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, তদন্ত শেষে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কারখানার মালিক নেত্রকোনা-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ারেস হোসেন বেলাল বলেন, ঘটনার সময় দেড় শতাধিক শ্রমিক কারখানায় কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ বৈদ্যুতিক শট শার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়।
তিনি আরো বলেন, ‘শীত মৌসুম সামনে রেখে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ লাখ ২১ হাজার ৪০০ এবং কারা কর্তৃপক্ষের জন্য ২০ হাজার কম্বল তৈরি করা হয়েছিল। এর বাইরে আরো কম্বল এবং কাঁচামাল রাখা ছিল। আগুনে সবই পুড়ে গেছে। একটি মেশিনও দারুণভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমান ৫০ কোটি টাকার উর্ধ্বে বলে তিনি দাবি করেছেন।
কারখানার শ্রমিক ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি ১৫ বছর ধরে এ কম্বল কারখানায় কাজ করছেন। ঘটনার সময় তিনিসহ আরো কয়েকজন কাটিং মেশিনে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত। চলন্ত মেশিন থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছিটকে কম্বলে আগুন ধরে যাওয়ায় পর দ্রুত গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকরা সঙ্গে সঙ্গে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, আগুন কোনোভাবেই কয়েদীদের অংশে প্রভাব ফেলেনি। তার পরও কাছাকাছি অংশ থেকে কয়েদীদের দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া হয়। আগুন নিভে যাওয়ার পর তাদেরকে নিয়মিত সেলগুলোতে নেয়া হয়েছে।
ডিআইজি প্রিজন ( ঢাকা) গোলাম হায়দার বলেন,  কারখানাটি কারাগারের অধীনে। তবে ১৯৮৩ সাল থেকে লিজ নিয়ে পরিচালনা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ারেস হোসেন বেলাল। এর সঙ্গে কয়েদীরা যুক্ত নয়। বাইরের শ্রমিক দিয়ে কম্বল তৈরী হয়।