উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দুইটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি যৌথ গবেষণার জন্য প্রকল্প দুইটির প্রস্তাব আহ্বান করে। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউজিসি এ দুইটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবের আহ্বান করে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান আলোচক ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ইউজিসিরি সদস্য অধ্যাপক আবদুল হাই শিবলী, অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোহাব্বত খান, অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসাইন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি মোকলেছুর রহমান প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী জানান, নতুন এই প্রকল্পের আওতায় পূর্ণকালীন কর্মরত একজন পোস্ট-ডক্টরাল গবেষককে প্রতিমাসে দেয়া হবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি যৌথ গবেষণা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ প্রকল্প একত্রে আট কোটি টাকা বরাদ্দ পাবে।
তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি যৌথ গবেষণা প্রকল্পে পূর্ণকালীন কর্মরত একজন পিএইচডি গবেষককে প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা ও খণ্ডকালীন গবেষককে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হেকেপের বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি যৌথ গবেষণা প্রকল্পগুলো একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ড অঙ্গের আওতাধীন একটি নতুন ‘উইনডো ৪’-এর আওতাভুক্ত থাকবে। বাংলাদেশে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা করাই এ নতুন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়-ইন্ডাস্ট্রি যৌথ গবেষণার প্রকল্প সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য হেকেপের ওয়েবসাইটে (www.heqep-ugc.gov.bd) পাওয়া যাবে।
প্রসঙ্গত, হেকেপ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও জবাবদিহিতামূলক কার্যক্রমে উত্সাহ দেয়া, অর্থায়ন করা এবং কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা ও গবেষণাকর্মের গুণগত মানোন্নয়ন করা।
এ সব লক্ষ্য সামনে রেখে ২০০৯ সাল থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা হয়। সে সময় এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৬৮১ দশমিক ৪ কোটি টাকা। মূল প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে ওই বছরের নভেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। ইউজিসি প্রকল্পটির মূল বাস্তবায়নকারী সংস্থা।
