আমরা গণতন্ত্র হত্যার শেষ পর্যায়ে :-ব্যারিস্টার মইনুল

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৪, ০০:৪৪

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, দেশে এখন একদলীয় শাসন চলছে। একদলীয় শাসন আর স্বৈরতন্ত্র একই বিষয়। তিনি বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেকে নির্বাচিত বলে সরকার এবং সংসদ চালানোর সাহস পাকিস্তানিরাও পায়নি। গতকাল শনিবার ‘বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ৭ বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনায় ব্যারিস্টার মইনুল এসব কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আমরা গণতন্ত্র হত্যার শেষ পর্যায়ে এসেছি। বাকশাল একবার গণতন্ত্র হত্যা করেছিলো; ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এরপর গণতন্ত্র সুসংহত করতে আমরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারিনি। যার ফলে দেশ আবার ঠিক সেই পর্যায়ে চলে গেছে। তিনি বলেন, আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্র। আজ বাংলাদেশে পাকিস্তানি আমলের স্বৈরশাসন চলছে। এর মধ্যে তারা রাজাকার খুঁজে বেড়ান। তিনি বলেন, দলীয়করণের রাজনীতি গণতন্ত্র হত্যার রাজনীতি। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য যে ইনস্টিটিউশনের দরকার ছিলো তা গড়ে তুলতে আমরা যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারিনি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে দেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে। অবৈধ সরকারকে বিদায় দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জনগণ যখন তাদের পছন্দমত প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে সেদিন বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন হবে এবং মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের আন্দোলন করে যেতে হবে।
গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, কথায় কথায় সংবিধানে সংশোধনী আনা হচ্ছে। এত সংশোধনী পৃথিবীর আর কোনো দেশে আনা হয়েছে কি-না জানি না। অন্যান্য দেশে সংবিধানের একটি দাঁড়ি, কমা সংশোধন করতেও দিনের পর দিন আলোচনা হয়। কিন্তু এখানে কারো সাথে কোনো আলোচনা হলো না।
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন বলেন, বিচারপতি নিয়োগে নীতিমালা করা হোক। নীতিমালা ছাড়া কোনো বিচারপতি নিয়োগ করা হলে সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ করে দেয়া হবে।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট শেখ আখতারুল ইসলাম প্রমুখ।