রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, স্থায়ী বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে একটি কার্যকর মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্য জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে। রবিবার বেইজিংয়ে অ্যাপেক সিইও শীর্ষ সম্মেলনের এক অধিবেশনে ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর: বাসসের।
আবদুল হামিদ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বাংলাদেশের মতো নন-অ্যাপেক ও অ্যাপেক সদস্য দেশগুলোর টেকসই অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। প্রস্তাবিত ‘ফ্রি ট্রেড এরিয়া অব দ্য এশিয়া প্যাসিফিক (এফটিএএপি)’ এর ফলে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের সৃষ্টি হবে, যা এ অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ওশেন রিম এসোসিয়েশনে (আইওআরএ) সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র বিষয়ক খাতে এ অঞ্চলের ভারত, শ্রীলংকা, সিঙ্গাপুর, ইউএই ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ স্থল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে দেশের মধ্যাঞ্চলে বিশ্বমানের একটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অ্যাপেকের সদস্য হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সদস্য নেয়ার ওপর থেকে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (অ্যাপেক) তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অধিবেশন সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিব ড. শামশাদ আক্তার। এতে মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ থেইন সেইন, লাও পিডিআর’র প্রেসিডেন্ট চোমালি সায়াসোন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামডি আক্কা মোহা সেনা পাদেই টিহো হুন সেন এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সিইও’রা উপস্থিত ছিলেন।
