নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহার, অব্যাহত রাখার ঘোষণা অপর অংশের

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৪, ২১:৫০
 
নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। লাইটারেজ শ্রমিকদের অন্য অংশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে নৌ শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিখোঁজ সাতজনের উদ্ধারসহ কতিপয় দাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজ শ্রমিকদের উদ্ধার ও ডাকাতদের গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।
নৌযান ধর্মঘটের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরসহ সারাদেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে শনিবার থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অংশে নৌ চলাচল আংশিক বন্ধ থাকলেও রবিবার সকাল থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাদের প্রায় ২৪ শত পণ্যবাহী জাহাজ কোন কাজ হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা জাহাজসমূহ স্ব-স্ব অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।
রবিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সমঝোত বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, ৭ নৌকা শ্রমিক অপহরণের হোতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে তারা গ্রেফতার হবে। তিনি আগামী ১৮ নভেম্বর আন্তঃ মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে চট্টগ্রাম ঢাকা নৌ রুটে স্থায়ী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হবে বলে সভায় জানান। এছাড়া যেসব এলাকায় ডাকাতি বা অপহরণের ঘটনা ঘটবে সেসব থানার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। এই রুটে ডাকাতদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলে ডিআইজি জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা জন্য জাহাজে পুলিশ থাকতে পারে। তবে এজন্য পুলিশ সদর দফতরের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
সভায় বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম ঢাকা রুটের দুই শতাধিক নৌ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে অপহরণের ঘটনা এটাই প্রথম। এই রুটে ১৭ কিলোমিটার এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে এ পর্যন্ত ৪৩টি বৈঠক করেছি। যখন বৈঠক হয় তখন কিছুদিন পরিস্থিতি ভালো থাকে। কিছুদিন পর আবার ডাকাতি শুরু হয়।
সভায় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আবু জাফর, কোস্টগার্ড পূর্বজোন প্রতিনিধি লে. কর্নেল মাসুদসহ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, মহানগর শ্রমিক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, ডক বন্দর শ্রমিক লীগ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
নৌযান ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, চট্টগ্রামের ডিআইজি’র সাথে কাদের বৈঠক হয়েছে তা তারা জানেন না। তিনি বলেন, নৌযান শ্রমিকদের বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হচ্ছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, নৌ শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নিখোঁজ লোকজনকে উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত আছে এবং থাকবে।