সর্বস্তরের নেতাদের মতামত নিচ্ছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৪, ১০:২২

নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে শিগগিরই সর্বাত্মক আন্দোলনে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি পৃথকভাবে কথা বলেছেন অন্তত ১৪-১৫ নেতার সঙ্গে। এ সপ্তাহজুড়ে তিনি পর্যায়ক্রমে বৈঠক করবেন তার উপদেষ্টা পরিষদ, নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে। অতঃপর বসবেন ২০ দলীয় জোটের শরীকদের সঙ্গে। বিএনপি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করবে- এমন আশা এখনো ছাড়েননি তারা। তারা আশা করছেন- ডিসেম্বরের মধ্যে কোন একটি পথ দেখা যাবে । তবে এরকম আশা ক্রমশ ম্রীয়মাণ হয়ে আসছে। ফলে পুরোদমে আন্দোলনের কথাই ভাবা হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে তা নিরুপণ করা হয়নি। মামলা-হামলায় জর্জড়িত, নেতারা রাজপথে দাঁড়াতে পারবেন কি-না, না-কী অতীতের মত আন্দোলন শুরু হলে আত্মগোপনে যাবেন- তা নিয়েই বেশি চিন্তিত হাইকমান্ড। তাই নিকট অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে পথ ঠিক করতেই বেগম জিয়া মতামত নিচ্ছেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে.জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান জানান, সবকিছু নির্ভর করছে বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। তিনি সবার মতামত নিয়ে নির্দেশনা চূড়ান্ত করবেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিনিয়র নেতা বললেন, নিজ দলের সিনিয়র অনেক নেতার বিশ্বাসযোগ্যতাই এখন হাইকমান্ডের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি কোন বিষয়ে তার সিদ্ধান্তের কথা বলার ক্ষেত্রে এখন খুব কৌশলী। হাইকমান্ডের ধারণা- গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের আলাপ-আলোচনা ও সিদ্ধান্ত সরকারের কানে পৌঁছতে খুব একটা সময় নিচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মারমুখী আচরণ ছাপিয়ে আন্দোলনের মাঠে অবস্থান নিতে সক্ষম নেতৃত্ব দলের মধ্যে রয়েছে কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। আর এসব কারণেই কর্মসূচি ঘোষণায় দেরি করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি ঢাকার বাইরে তার সমাবেশগুলোতেও এখন আর কর্মসূচির কথা প্রকাশ করছেন না। তিনি বলছেন, ‘কি কর্মসূচি দেবো তা এখন বলবো না। সময় হলেই ডাক দেবো।’
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উপযুক্ত সময়েই আন্দোলনের ডাক দিবেন চেয়ারপার্সন। এবারের আন্দোলন হবে আমাদের সবার অস্তিত্বের লড়াই। কিছুতেই এতে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।
দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছাড়াও খালেদা জিয়া আগামী দিনগুলোয় দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে ব্যস্ত থাকবেন। আজ ১০ নভেম্বর দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ১১ নভেম্বর ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৩ নভেম্বর দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন খালেদা জিয়া। প্রতিটি বৈঠক চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, ৫ নভেম্বর বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের যে সূচি ছিল, তা করা হয় ১৩ নভেম্বর। একইভাবে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নির্ধারিত ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিবদের বৈঠক পিছিয়ে ১১ নভেম্বর নেয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকটি পিছিয়ে নেয়া হয়েছে আজ রাত সাড়ে ৮টায়। যুদ্ধাপরাধ মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং একই অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের রায়ে শূরা সদস্য মীর কাসেম আলীর ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জোটসঙ্গী জামায়াত হরতাল ডাকায় এই বৈঠকের সময় সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ১২ নভেম্বর কিশোরগঞ্জে এবং ২৯ নভেম্বর কুমিল্লায় ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া।
একাধিক নেতা মনে করেন, ওই নির্বাচনের পরপরই দল পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেয়া জরুরি ছিল। দল পুনর্গঠন সম্পন্ন থাকলে যে কোনো মুহূর্তে আন্দোলনের ডাক দেয়া সম্ভব ছিল। ঢাকাকে আন্দোলনের টার্গেট করে মহানগর বিএনপি পুনর্গঠন করা হলেও তাদের কর্মকাণ্ডে গতি আসেনি। কমিটি নিয়ে চলছে দলাদলি ও কোন্দল। আর ঘোষিত কমিটি নিয়ে রাজপথে প্রকাশ্য মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে ছাত্রদলের দুই পক্ষ। এই অবস্থাও ভাবাচ্ছে হাইকমান্ডকে।
ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, নবগঠিত মহানগর কমিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ করছে। আশা করছি চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগেই কমিটিগুলোও পুনর্গঠন হয়ে যাবে। চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ডাকে যে কোনো কর্মসূচি পালনে ঢাকা মহানগর কমিটি সবসময়ই প্রস্তুত আছে।