কামারুজ্জামান পুত্রের বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল : এটর্নি জেনারেল

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৪, ১৭:৩০


এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত কামারুজ্জামানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তার পুত্রের দেয়া বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে কামারুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বড় ছেলে হাসান ইকবাল সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে তার বাবার বিরুদ্ধে দেয়া রায়কে ন্যায়ভ্রষ্ট বলে দাবি করেন। সোহাগপুরের যে ঘটনার অভিযোগে তার বাবার বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে এটর্নি জেনারেল দণ্ডিত আসামি পুত্রের এ বক্তব্যকে দম্ভক্তি, পাগলের প্রলাপ ও শালিনতা বর্জিত বলে উল্লেখ করেন। আসামিপুত্রের দেয়া বক্তব্য তাদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতেও পেশ করেছিলেন। আদালত আসামিপক্ষের বক্তব্য, রাষ্ট্রপক্ষে ভিকটিমদের বিষয়ে পেশ করা যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে রায় দিয়েছে।
এটর্নি জেনারেল বলেন, আপিলের রায় প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে যাবে। পরে ট্রাইব্যুনাল রায় কার্যকরে আইনানুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে এটর্নি জেনারেল বলেন, রায়ের কপি যখন কামারুজ্জামানের কাছে যাবে তখন প্রাণভিক্ষার জন্য তিনি সুযোগ পাবেন। রায়ের কপি কি পূর্নাঙ্গ হবে, না-কি সংক্ষিপ্ত হবে এবং কখন এ কপি প্রকাশ করা হবে তা আদালতের বিষয়। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিমতে বলেন, রায় রিভিউয়ের কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বিশেষ আইনে এ বিচার হচ্ছে। সাংবিধানিকভাবে এ আইন প্রটেকটেড।
জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে মামলায় ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রেখে গত ৩ নভেম্বর রায় দেয় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চে এ রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চের অপর তিনজন বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে কামারুজ্জামান হলেন তৃতীয়ব্যক্তি, আপিল বিভাগে যার মামলার নিষ্পত্তি হলো। এর আগে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার আপিল নিষ্পত্তির পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় আপিল বিভাগ। এরপর গত বছর ১২ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিলের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ট্রাইব্যুনালে দেয়া সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ।
একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। সে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।