ছাত্রদলের তিন ‘বিদ্রোহী’নেতা বহিষ্কার, ৭ জন শোকজ

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:১৭
 
 
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশকারি দলের তিন ’বিদ্রোহী’ নেতাকে বহিষ্কার ও সাত নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলেন- ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি আবু সাইদ, টুকু-আলিম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজ।
এছাড়া সাতজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- জাবেদুল হাসান জাবেদ, তরুণ দে, তারিকুল ইসলাম টিটু, ফেরদৌস মুন্না, রাফিকুল ইসলাম রয়েল, জাকির হোসেন বাবু, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। গত ১৪ই অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্যের ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে পদবঞ্চিত নেতারা আন্দোলন করে আসছিলেন। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আবদুর ছাত্তার পাটোয়ারি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদকে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত দুইজন সাবেক ছাত্র নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সংশ্রব না রাখতে বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে বলা হয়েছে।
এ ছাড়াও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাভেদ হাসান স্বাধীন, তরুণ দে, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক তরিকুল ইসলাম টিটু, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না এবং সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রয়েলের রিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে ৫টার মধ্যে নয়া পল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
ছাত্রদল সূত্র জানায়, ছাত্রদলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকে বসেন। চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রবিবার রাতের ওই বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার,প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
বৈঠক সূত্র জানায়, ছাত্রদলের অচলাবস্থা নিরসনে চেয়ারপারসনের কঠোর নির্দেশনা নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যে কোনো মূল্যে সংগঠনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তখন সেখানে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকেও ভত্সনা করা হয়। ৭ নভেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যাওয়ার পথে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে থাকা ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। এ হামলাকে পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের ঔদ্ধত্য আচারণ হিসেবে দেখা হয়। ইসহাক সরকার ভবিষ্যতে সংগঠনের কোনো ক্ষতি হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কথা জানান।
সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি এ লিখিত সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদন দেন।