সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান নিয়ে বিতর্কিত কর্মপরিকল্পনার মুখে নতুন করে মিয়ানমার ছাড়তে শুরু করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর বলছে গত তিন সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গা নৌকায় করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এদের অনেকের গন্তব্য মালয়েশিয়া। তবে প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের ঘটনা বাড়ছে। সর্বশেষ দুই বছর আগে রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এবার বিপুল সংখ্যায় দেশ ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে রোহিঙ্গারা।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিতর্কিত এই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা তুলে ধরে মিয়ানমার।
এই পরিকল্পনায় বলা হয়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্বীকার করলে মিয়ানমারের দ্বিতয়ি শ্রেণীর নাগরিকত্ব মিলবে রোহিঙ্গাদের। মিয়ানমারের সরকার অনেক দিন ধরে গোপনে বিতর্কিত ‘দ্য রাখাইন স্টেট একশন প্ল্যান’ এর খসড়া প্রণয়ন করেছে।
দশকের পর দশক ধরে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চলছে। রাখাইন রাজ্যে মুসলিম-বৌদ্ধ সংঘাতে প্রায়ই রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।
২০১২ সালে এমন এক সংঘর্ষের কারণে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের বিতর্কিত এই কর্মপরিকল্পনা হাজার হাজার মানুষকে বন্দিশিবিরে আবদ্ধ করবে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গার অনেকেই এখন দেশহীন আর অনেকে বর্ণবৈষ্যপূর্ণ রাখাইন প্রদেশেই বসবাস করছে। দাঙ্গা ও বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশে আসা এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিবন্ধন হয়েছে।
২০০৫ সালের আগে প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরো ৯ হাজার নিবন্ধিত রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ২৫ থেকে ২৮ হাজার। আর নিবন্ধিত নয় এমন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা আড়াই থেকে তিন লাখ।
