ফিটনেসবিহীন গাড়ি ধরতে অভিযান, দুর্ভোগ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৩৭
গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষার অভিযান শুরুর দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবাও গণপরিবহন সংকটে রাজধানীসহ দেশবাসীকে পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ।এ অভিযানের প্রথমদিন  গতকাল সোমবার দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচল অনেকটা কমে যায়। 
ফিটনেসবিহীন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানোর অপরাধে রাজধানীতে ৭৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া দু’জন চালককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড, একটি গাড়ি ধ্বংস এবং দুইটি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি’র (বিআরটিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এ অভিযান চালায়। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর কাওরানবাজার, কাকলী, গাবতলী ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বেলা তিনটার দিকে গাবতলী থেকে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত মানিক মিয়া এভিনিউয়ে যায়। সেখানে অভিযান পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সারাদেশে একযোগে অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় অভিযান চলছে। এটি অব্যাহত থাকবে। এ সময় মন্ত্রীকে বলা হয়, অভিযানের কারণে সড়কে বাস নামেনি। যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, সফলতা পেতে গেলে সাময়িক কষ্ট স্বীকার করে নিতে হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে এ অভিযানের বিষয়ে চিঠি দেয়া হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে সোমবার থেকে এ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয় হয়।
এদিকে গতকাল এ অভিযানের কারণে রাজধানীতে বেসরকারি মালিকানাধীন বাস চলাচল কমে যায়। গণপরিবহনের সংকটে হয়রানির শিকার হন যাত্রীরা। বিকালে বিভিন্ন স্টপেজে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষকে। অনেকে গন্তব্যে যান বাড়তি ভাড়া দিয়ে।
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, অভিযান শুরুর পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, বিভিন্ন সংযোগ রাস্তায় বাস ও গাড়ির সংখ্যা ছিল কম। এক শ্রেণির মালিক-চালকদের অঘোষিত সিদ্ধান্তে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য পরিবহন বন্ধ থাকায় আরিচা, পাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ, ঘিওর, ধুবড়িয়া, হরিরামপুরসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। মালিক-চালকরা জানান, পুলিশের হয়রানি এড়াতে কৌশলগত কারণে কিছু গাড়ি রাস্তায় চলাচল করছে না।
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মহাসড়কের চলাচলরত ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, নসিমন-করিমন-ভটভটি ও ট্রাক্টর চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরুর পরপরই ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
রাজশাহী অফিস জানায়, সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। প্রথম দিনেই ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানের মুখে রাজশাহীর সড়ক-মহাসড়কে বাস-ট্রাক চলাচল কমে গেছে। রেজিস্ট্রিশনবিহীন মোটরসাইকেল উধাও হয়ে গেছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচলও কমেছে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, অভিযানের প্রথম দিন বগুড়ায় ১৯টি পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা এবং অর্ধশত চালকদের কাছ থেকে ২০ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ফিটনেসবিহীন মোটরযান, লাইন্সেসবিহীন চালক, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল ৬২টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২২টির বিরুদ্ধে ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকায় মামলা দায়ের করা হয়। আদায় করা হয় ২২ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, অভিযানের প্রথম দিনে ভটভটি, টেম্পো বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ৫৫টি মামলা দেয়া হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১৮ হাজার ১শ’ টাকা। দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি ও যানজট সৃষ্টি করায় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। বিকাল পর্যন্ত শতাধিক ইজিবাইক আটক করে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ। সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়।