টিআইবির প্রতিবেদন মনগড়া : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৪, ১৮:৩৪
 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মনগড়া প্রতিবেদন দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে ম্লান করতে চায়।
তিনি বলেন, টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনটি আমি লাইন বাই লাইন পড়েছি। সেখানে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোথাও লেখা নেই কে কাকে ঘুষ দিয়েছে। বলতে হবে, কোথায় কাকে কত টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। না হলে বুঝব এই প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার ভবনে বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. দীন মো. নূরুল হক, জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান ও সৈয়দ বোরহান কবির প্রমুখ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্ভাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। সবাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের প্রশংসা করে, শুধু টিআইবি করে না। আমি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিইনি। আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যার বিরুদ্ধেই দুর্নীতি প্রমাণ হয়েছে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, টিআইবির রিপোর্টে সরকারের সফলতার চিত্র আনা হয়নি। সরকারের আমলে চিকিত্সকদের থানা-উপজেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এখন থানা উপজেলায় ১০ থেকে ১২ জন করে চিকিত্সক অবস্থান করছেন। যার যার উপজেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে একই উপজেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে তদবির করার কোনো সুযোগ নেই।
মেডিকেলে ভর্তিতে নীতিমালা ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মোহাম্মসদ নাসিম বলেন, এমবিবিএস পরীক্ষা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়েছে। পরীক্ষার আগেই সব কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এমন কী প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো গুজবও হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি বলে দিয়েছি ৪০ নম্বর পেতেই হবে এবং ১২০ ছাড়া ভর্তি হওয়া যাবে না।
এ ছাড়া দুপুরে মোহাম্মদ নাসিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে হূদরোগের চিকিত্সা নিয়ে আয়োজিত একটি কর্মশালায় বলেন, দেশের হূদরোগের চিকিত্সায় অভুতপূর্ব উন্নিত সাধিত হয়েছে। তবে আরো উন্নতির লক্ষ্যে এবং বিশ্ব মানের চিকিত্সা জনগনের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে। চিকিত্সা সেবার মান উন্নয়নে সরকার সব ধরণের সহযোগিতা করছে।