‘প্রতিদিন ভোরে আমরা মাইক্রোবাস নিয়ে বের হই। আমাদের টার্গেট থাকে রিকশার মহিলা যাত্রীর দিকে। মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগটি চলন্ত অবস্থায় ছিনিয়ে নিলে মোবাইল ফোনসেট ও নগদ টাকা পাওয়া যায়। ২৮ অক্টোবর ভোরে মিরপুর রোডের সোবহানবাগ মসজিদের কাছে দেখতে পাই রিকশায় একজন পুরুষ ও একজন মহিলা লালমাটিয়ার দিকে যাচ্ছে। কালাম মাইক্রোবাসটি রিকশার ডান পাশে এসে এনে গতি কমিয়ে দেয়। এরপর মহিলা যাত্রীর হাঁটুর ওপর থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেই। কিন্তু তিনি ব্যাগের হাতল পেঁচিয়ে ধরেছিল বলে রিকশা থেকে পড়ে যায়। এসময়ও তিনি ভ্যানিটি ব্যাগটি ধরে ছিল। ১০/১৫ সেকেন্ড পর হাতল ছিঁড়ে ব্যাগটি আমার হাতে চলে আসে। ভ্যানটি ব্যাগ তল্লাশি করে পাই সাড়ে ৭ হাজার টাকা। দুপুরে টেলিভিশনে দেখি ওই মহিলা মারা গেছে। পরদিন পত্রিকায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করলে ভয় পাই। এরপর থেকে আর কোন অপারেশনে নামিনি।’
রাজধানীর ধানমন্ডিতে গৃহবধূ আয়শা আক্তার রিপার ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনার এভাবেই বর্ণনা দিয়েছেন ছিনতাইকারী হেমায়েত হোসেন হিমু। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকেসহ তিনজনকে গত সোমবার রাতে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চারটি ভ্যানিটি ব্যাগ, একটি ল্যাপটপ, দুটি চাপাতি ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহূত একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার বাকি দুজন হলেন আবুল কালাম (২৫) ও আলমগীর হোসেন ওরফে রতন (৩০)।
গত ২৮ আক্টোবর সকাল ৭টার দিকে সোবহানবাগ মসজিদের সামনের সড়ক হয়ে রিকশায় বাসায় যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন রিপা। একটি মাইক্রোবাস থেকে দুর্বৃত্তরা তার হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় রিপার ছোট ভাই রায়হান জাদা রবি বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের তিন-চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হয়। ধানমন্ডির মিরপুর সড়কের কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মিরপুর এলাকার একটি ছিনতাইকারী চক্র প্রতিদিন ভোরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাস দিয়ে ছিনতাই করে। সোমবার রাত ১০টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশ থেকে কালামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকী দুজনকে গ্রেফতার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহূত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রতন জানায়, প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক ওয়াহিদ মুরাদ এই মাইক্রোবাসটির মালিক । মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনে ওয়াহিদ মুরাদের বসবাস। তার বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস রয়েছে। এ কারণে চাঁদা হিসাবে তিনি ওই মাইক্রোবাসটি জোরপূর্বক ওয়াহিদ মুরাদের কাছ থেকে নিয়ে নেন। এই মাইক্রোবাসটি হিমুর কাছে সে ঘন্টায় ২ হাজার টাকায় ভাড়া দিত।
ধানমন্ডি থানার ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হিমু ও কালামের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মিরপুর ও পল্লবী থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। তারা গত ২ বছর ধরে এই মাইক্রোবাস দিয়ে ভোরবেলা ছিনতাই করতো।
এদিকে, ঘটনার দিন রিপার সঙ্গে থাকা তার বন্ধু খান মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া হিমুই ঘটনার দিন রিপার ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়েছিল।
