যারা আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করিয়েছেন তারা মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। তিনি বলেন, রাজাকারের দায়ের করার মামলায় গ্রেফতার পরোয়ানার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অপমান করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার মানহানির একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিক্রিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
গ্রেফতার হতে প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি যে কোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে প্রস্তুত আছি। কখন পুলিশ আসবে, আমি সেই অপেক্ষায় আছি। তবুও আমি কারো সঙ্গে আপোষ করব না। প্রয়োজনে আমি সারা জীবন জেলে থাকতে প্রস্তুত আছি। আমি রাজাকারকে রাজাকারই বলবো। আমার অবস্থান থেকে আমি পিছপা হব না।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। আমি খুব সাহসের সঙ্গে একজন পাকিস্তানি দোসর ও গেজেটভূক্ত রাজাকারকে চিহ্নিত করে দিয়েছিলাম। তিনি ছিলেন, ‘তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর। এরপর তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন।’
‘সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যে সরকার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, আমি সেই সরকারের সময়ে একজন রাজাকার চিহ্নিত করে দিলাম। এ জন্য আমার এই সরকারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ প্রাপ্ত ছিল। কিন্তু তা না পেয়ে বরং তিরস্কৃত হলাম। এজন্য তিনি দলের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ওই সময় যারা পাকিস্তানি সরকারের প্রশাসনে ছিলেন তারা সবাই রাজাকার। কারণ, এখন যেমন এই সরকারের কথা মতো পুলিশ-র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলছে তখনো সেটাই হয়েছে। এখন রাজাকারদের বিচার হচ্ছে। কিন্তু ওই সময় পাকিস্তানের দোসর যারা রাজাকার আলবদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটি সৃষ্টিকর্তা তাদের বিচার হচ্ছে না। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভূলুণ্ঠিত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আলী মাসুদ শেখ কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে ‘রাজাকার’ বলায় মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন মজুমদারের দায়ের করা মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়। দীর্ঘদিন আদালতে হাজির না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় আদালত এ আদেশ দেন। গ্রেফতারি-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, কাদের সিদ্দিকী প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তিনি রাজাকার হয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কীভাবে করছেন? কাদের সিদ্দিকীর ওই বক্তব্যে বাদীর সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে-উল্লেখ করে ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন।
