'খোকন রাজাকারের' ফাঁসির আদেশ

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৪, ২১:০১
 
 
 
 
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা-বিরোধী অপরাধের ১০টি অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায়
তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। এটি হলো মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বাদশ রায়।
মানবতা-বিরোধী অপরাধ মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর সুনির্দিষ্ট ১১টি ঘটনায় জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ এবং ২ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর, ৩ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৪ নম্বর অভিযোগে ২০ বছর এবং ১১ নম্বর অভিযোগে ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। খবর বাসসের।

রায় ঘোষণার পর মামলার প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, ‘স্বঘোষিত রাজাকার জাহিদ হোসেনের ওরুফে খোকনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। এ রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় খোকন রাজাকারের হাতে ভিকটিমদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে আনীত ১১টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি তথ্য, প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণ সংক্রান্ত ৬টি অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ এবং বাকি ৪ অভিযোগে মোট ৪০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। এ আসামি একক ও সম্মিলিতভাবে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মানবতা-বিরোধী অপরাধ করেছেন বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।
এ রায় আইনের শাসনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হতে আরো একটি ধাপ অগ্রগতি হলো। পলাতক এ আসামিকে গ্রেফতার করে রায় কার্যকরের পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।’