দেশের বিভিন্ন নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী এবং বিশিষ্টজনরা বলেছেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা চলছে। দরিদ্রের ভূমি ভোগ দখল করছে প্রভাবশালীরা, সরকারের জমি দখলে রাখছে ভূমি দস্যুরা। শুধু গ্রাম নয় শহরেরও অর্ধেক জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি ও কালো অর্থের প্রভাবে ভূমিদস্যুরা শক্তিশালী হচ্ছে, গরিব মানুষ জীবন-অস্তিত্বের সংকটে দিন কাটাচ্ছে। আগ্রাসন চলছে। রাজনৈতিকভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে দখলদারদের দাসে পরিণত হতে হবে গরীব কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতাহীন নাগরিকদের। এক্ষেত্রে সরকারকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে দেরি করা উচিত হবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে ‘আইন, বিধি, মানবাধিকার ও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে কৃষিজমি, বনভূমি দখল ও অধিগ্রহণ বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এ কথা বলেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), টিআইবি, এএলআরডি, বেলা, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এ প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। এ আটটি সংগঠন যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইন সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়িক স্থাপনা, কারখানা প্রতিষ্ঠা, নগরায়ন, আবাসিক প্রকল্পসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে বসতভিটা, কৃষিজমি, বনভূমি, জলাধার একের পর এক বেআইনিভাবে বেহাত হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, অধিকার হরণ ও হয়রানির মাত্রা দিনের পর দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, শুধু গ্রাম নয় শহরেরও অর্ধেক জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদের তীব্র প্রতিবাদ করতে হবে। যেখানে জনগণের প্রতিকার চাওয়ার কিছু থাকে না সেখানে আমরা কোন মুখে বলি গণতন্ত্রের মধ্যে বাস করি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি অথচ ন্যূনতম অধিকার নিয়ে বাস করতে পারছি না।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনগণকে অবহেলা করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।
বেলার প্রধান নির্বাহী এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে কৃষকরা। তাদের উচ্ছেদ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে গোটা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, মিথ্যা মামলার সামান্য তদন্ত না করে বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এ কারণে অনেকে হয়রানির শিকার হয়।
নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এএলআরডি’র শামসুল হুদা, ডা. আব্দুল মতিন, সঞ্জীব দ্রং। গাজীপুর, কক্সবাজার, বান্দরবান, নোয়াখালী থেকে আগত ভূমিদস্যুতার শিকার কয়েকজন তাদের দুর্দশার চিত্রও তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে।