নারীর ক্ষমতায়নে চাই উন্নয়নপরিকল্পনায় সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৪, ১০:৩৩

লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সামাজিক কাঠামোর অন্যায্য অংশ ও সামপ্রদায়িকতা বর্জনের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীর জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘জেন্ডার এন্ড উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ শীষর্ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘ইনস্টিটিউট অফ মাইক্রোফিন্যান্স’ এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এম, এ বাকী খলীলী। দেশের আর্থ-সামাজিক অঙ্গনের বেসরকারি সংস্থা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের ৫ম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতিতে নারীর অবদান সবচেয়ে বেশি। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে তৃণমূল নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কারণ কৃষির ৮০ শতাংশ শ্রমিকই নারী। এজন্য বাংলাদেশ সরকার তৃণমূল নারীর উন্নয়নকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।           
দ্যা হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় দেশের প্রায় সহস্রাধিক নারী সংগঠনের সমন্বয়ে ২০০৬ সালে বিকশিত নারীদের নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়।
প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশুর মৃত্যুহার কমানো, টিকাদানসহ শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ এবং তাদের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নে এই নেটওয়ার্ক কাজ করে। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ১৪০০ নারী অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনে বিকশিত নারীর পক্ষ থেকে ৯ দফা ঘোষণা পাঠ করা হয়।
ঘোষণাসমূহ হলোঃ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, প্রান্তিক নারীদের সুসংগঠিত করে নারীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা, শিশু বিবাহ, যৌতুক, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ করা, পারিবারিক সংহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিতভাবে কাজ করা, স্থানীয় সরকারের সকল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা।
তাছাড়া নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্যে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল ল’য়ার এসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ানা হাসান ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে এই নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।