উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতের চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পের কনস্টেবল অমিয় ঘোষ কিশোরী ফেলানীকে কাঁটাতাঁরের বেড়ায় গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কুচবিহার জেলা সদরের সোনারী এলাকায় অবস্থিত ১৮১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। এই আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ। ঐ সময় বিচারে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে নির্দোষ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল আদালত। এই রায় প্রত্যাখান করে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছে আবেদন পাঠান ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ১ বছর পর চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর ভারতের কুচবিহারে বিএসএফের সেক্টর সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স আদালতে মামলাটির পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পঞ্চম দিন ২৬ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষনা করা হয়।
প্রায় দেড় মাস মুলতবির পর পুনরায় শুরু হচ্ছে চাঞ্চল্যকর ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচার। আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে ভারতের কুচবিহারে বিএসএফের সেক্টর সদর দপ্তরের বিশেষ আদালতে এই বিচার শুরু হবে। এই উদ্দেশ্যে আগামী রবিবার কুচবিহার যাবেন ফেলানীর বাবাসহ ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার সকাল ১০টায় বিশেষ আদালতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি দলের অন্য দুই সদস্য হলেন— কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন এবং ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটির পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত হওয়ার এক বছর পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। কিন্তু পুনর্বিচার কার্যক্রমের পঞ্চম দিনে (২৬ সেপ্টেম্বর) আকস্মিকভাবে আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এদিন সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন ও ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তত্কালীণ কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আখন্দ কুচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন।
বিজিবির ৪৫ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার মেজর এটিএম হেমায়েতুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ফেলানী হত্যা মামলায় জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স বিশেষ আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরুর বিষয়টি বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট ভিপি বাদলা চিঠি মারফত নিশ্চিত করেছেন। এবং ওই আদালতে সোমবার সকাল ১০টায় ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
