জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ শ্রমিক আন্দোলনের মহাশত্রু : ইনু

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৪, ২০:৪৭

 

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদ গণতন্ত্রের মত শ্রমিক আন্দোলনেরও মহাশত্রু। তিনি শ্রমিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এই শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
শুক্রবার জাসদ কার্যালয়ে সদ্য প্রয়াত শ্রমিক নেতা ফিরোজ উদ্দিন আহমেদের শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রয়াত নেতার স্মরণে কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ এ শোক সভার আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নারী-পুরুষের মিলিত শ্রমের বিনিময়েই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব। কিন্তু সাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধ তেতুল হুজুররা নারীদের ঘরের ভিতরে বন্দী রেখে তাদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে রাখতে চায়।
তিনি দেশের উন্নয়নে নারী শ্রমিকদের কাজের পথ মসৃণ করতে এই মুর্খ মোল্লাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে আরো বেশি সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
ইনু বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরী সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে এখনও শ্রমিকদের নূন্যতম জাতীয় মজুরী নির্ধারণ হয়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলোকে সরকার ও মালিক পক্ষের সঙ্গে দেন-দরবার করে এ দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান।
দেশের সংবিধান ও আইন শ্রমিকের পক্ষে এবং অতীতের যে কোন সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনার সরকার অনেক বেশি শ্রমিক দরদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরীর এ দাবি আদায়ের এখনই উত্তম সময়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ে শুধু ন্যায্য মজুরীর কথা বললেই চলবে না, সেই সঙ্গে বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক বিষয়গুলোও ট্রেড ইউনিয়নকে আমলে আনতে হবে।
তিনি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সরকারের ভিতরে, রাজপথে ও সংসদে শ্রমিকদের এ দাবির প্রতি অন্যদের সহানুভ্থতি তৈরিতে লড়ে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
জিয়া ও এরশাদ সংবিধানের পাতা থেকে সমাজতন্ত্রকে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সমাজতন্ত্রসহ ৪ মূলনীতি আবার সংবিধানের পাতায় পূর্নপ্রতিষ্ঠা করেছে। এখন এ মূলনীতিগুলোকে সংবিধানের পাতা থেকে জীবনের পাতায় নিয়ে আসতে হবে।
জাসদ শ্রমিক-কৃষক, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের পক্ষে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের জন্য সামাজিক অর্থনীতি চালু করতে হবে।
শ্রমিক নেতা ফিরোজ উদ্দিন আহমেদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ফিরোজকে স্মরণ করবো, কারণ আমরা তার মত নিষ্ঠাবান ও শ্রমিকবান্ধব হবো। ফিরোজ শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কাজ যেখানে রেখে গেছেন, আমাদের সেখান থেকে শুরু করতে হবে। তাহলেই তাকে যথার্থ সম্মান জানানো হবে।
জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশের সভাপতি শিরীন আক্তার এমপি’র সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, স্কপ নেতা জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল, প্রয়াত শ্রমিক নেতা ফিরোজ উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম, স্কপ নেতা বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সভাপতি শাহ মো: আবু জাফর, স্কপ নেতা বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, রেলওয়ে শ্রমিক জোটের সভাপতি ফারুক হোসেন, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. রফিকুল ইসলাম লিটু প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ডা. লিটু ত্যাগী শ্রমিক নেতা ফিরোজ উদ্দিনের স্ত্রীর হাতে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।