প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যারা রাজাকারদের সঙ্গে রাজনীতি করে, তারাও কি রাজাকার নয়? সত্যিকার অর্থে বিএনপি রাজাকারের দল। জিয়াউর রহমান রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জয় বলেন, এখন আমাদের কোনো দেশকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যান্য দেশ কী বলল, না-বলল, তাতে আমাদের কিছুই যায়-আসে না। বাংলাদেশ স্বাধীন। দেশ আমাদের মতো চলবে। আমাদের ঠেকানোর কোনো পথ নেই। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বর্তমান সরকারের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারা হোটেলে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ইতিহাসে অনেক কালো দিন গেছে, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা এত দূর এসেছি। ১৯৭১ সালে বিশ্বের মহান একটি দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়ে বোমা দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ঠেকাতে চেয়েছিল।
জয় বলেন, বিএনপি যদি প্রমাণ করতে চায়, তারা রাজাকারের দল নয়, তাহলে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট ছেড়ে আসুক। জোট না ছাড়া পর্যন্ত বলা যাবে না—তারা রাজাকার না। তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি বলেন, মিডিয়ার মানুষদের আমি বলি এত উন্নয়নের কাজ হয়েছে, একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার, আন্তর্জাতিক নির্বাচনে জিতে আসছি। তারপর কিভাবে বলেন— এটা হচ্ছে না, ওটা হচ্ছে না। ভুল তো হবেই, আমরা তো মানুষ। ১৬ কোটি মানুষের দেশে কোনো সমস্যা থাকবে না—এটা কি হয়? মিডিয়ার মানুষেরা বলেন, আমরা তো আওয়ামী লীগের ভালো চাই, তাই সমালোচনা করি। যখন আমরা ৫ বছর আগের কথা আর এখনকার কথা বলি তখন তারা বলেন, আমাদের তো নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, সত্য আর মিথ্যার মধ্যে কি নিরপেক্ষ থাকা যায়? পাকিস্তান আর স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যে কি নিরপেক্ষ থাকা যায়?
জয় বলেন, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে যখন আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়, তখন অনেকেই বলেছিলেন জামায়াতকে বাঁচাতে এই ধরনের রায়। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, জামায়াতকে যদি বাঁচাতেই হয়, তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির আদেশ অমান্য করে কি আমরা কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিতাম? তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন স্বাধীন আদালত। আদালতের রায়ের বিষয়ে সরকার কি করতে পারে? আমরা বলতে পারি আদালতের ভুল হয়েছে। ৪৩ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশেই ষড়যন্ত্র চলেছে। অনেক কিছু মোকাবিলা করে আমরা এ পর্যন্ত এসেছি। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিরা করে স্বাধীনতা পেয়েছি। অস্ত্রের মুখে বোমা দিয়ে আমাদের কেউ ঠেকাতে পারেনি। স্বাধীনতার যে আন্দোলন সে আন্দোলন আমরা শেষ করতে পারিনি, সোনার বাংলা গঠন করতে পারিনি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও কিন্তু বাংলাদেশের সব মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি। বেশির ভাগ দিয়েছে, কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়েছে। তারা কারা সে দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। তাদের চিহ্নিত করতেই হবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর কারা ক্ষমতায় এসেছে? ক্ষমতা দখল করেছে? আর কারা ৭০ সালে পাকিস্তানের দলকে ভোট দিয়েছে। একশ্রেণির লোক ছিল যারা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা করত, তাই তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তারা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চেয়েছিল। আরেক শ্রেণি আছে যারা ক্ষমতার লোভে কাজ করেছে। ৭৫-এর পর সুবিধাবাদীরা ক্ষমতা দখল করেছিল। স্বৈরাচারের সৃষ্টি করা বিএনপিতে এই সুবিধাবাদীরা যোগ দেয় ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য। জয় বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে একের পর এক অপপ্রচার চালানো হয়েছে। স্কুলের বইয়ে মিথ্যা ইতিহাস শেখানো হয়েছে। উদ্দেশ্যে ছিল সত্য মানুষ ভুলে যাবে। যারা বড় হচ্ছে, তারা সত্য জানবে না। এটা কিন্তু অনেক ফিউচারের একটা পরিকল্পনা। ২০ বছর আগে স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে ভয় করত, আমাদের দেশের মানুষ লজ্জা পেত। জয় বাংলা বললে নির্যাতিত হতো।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমরা মুক্তভাবে স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে পারি। আজকে বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। এমন একটি অবিশ্বাস্য মিথ্যা কথা বলা হয় যে, আমরা শুনে হাসি যে, এই লোক কি পাগল হয়ে গেছে? তবে এখানে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। তারা কিন্তু পাগল নয়, তাদের উদ্দেশ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, যারা সত্ ভালো কাজ করতে চায়, তারা জোর গলায় সত্যকে তুলে ধরতে লজ্জা পায়। ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয় মুরব্বিদের সঙ্গে তর্ক করবা না, তাই আমরা মিথ্যার প্রতিবাদ করতে লজ্জা পাই। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি তাদের এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদ করতে হবে, লাজুক হলে চলবে না।
সুচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এ আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, চিত্রশিল্পী হাসেম খান, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ।
