রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকায় নূপুর বেগম (২১) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাতে পূর্ব হাজীপাড়ার বউবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে নূপুরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরপর সোমবার ভোরে গ্রামের বাড়ি শেরপুরের শ্রীবর্দী থেকে স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামপুরা থানার ওসি এনামুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় নূপুরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার স্বামী। তাদের দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর এই কলহের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মৃতের পারিবারিক সূত্র জানায়, নূপুর ও দুলাল পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মুন্নাকে নিয়ে তারা ভাড়া থাকতেন পূর্ব হাজীপাড়ার বউবাজার এলাকার এক বস্তিতে। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই জের ধরে নূপুরকে হত্যা করে থাকতে পারেন দুলাল।
রামপুরা থানার ওসি এনামুল হক বলেন, দুলাল রামপুরা এলাকায় রিকশা চালাতেন। তার স্ত্রী নূপুর বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। রবিবার সন্ধ্যার দিকে দু’জনই একসঙ্গে কাজ শেষ করে তাদের ঘরে ঢোকেন। তাদের ছেলেটি পাশে মায়ের বাসায় থাকত। রবিবার রাত ১২টার দিকে থানায় খবর আসে, নূপুরকে হত্যার করে তার স্বামী দুলাল ঘরের দরজা তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নূপুরের লাশ দেখতে পায়। তার দুই হাত বাঁধা ও গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। এরপর দুলালের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সোমবার ভোরে শেরপুরের শ্রীবর্দীতে দুলালের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় দুলাল তার বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে।
ওসি এনামুল হক আরো বলেন, নূপুর পরকীয়ায় জড়িত বলে সন্দেহ করতেন দুলাল। এ নিয়ে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো। এর জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নূপুরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
