যারা রাজাকারের সঙ্গে রাজনীতি করে তারাও কি রাজাকার নয় :জয়

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৪, ০০:১৬

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, যারা রাজাকারদের সঙ্গে রাজনীতি করে তারাও কী রাজাকার নয়? সত্যিকার অর্থে বিএনপি রাজাকারের দল। জিয়াউর রহমান রাজাকারদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন দেশকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যান্য দেশ কী বললো, না বললো তাতে আমাদের কিছুই যায় আসে না। বাংলাদেশ স্বাধীন। দেশ আমাদের মতো চলবে। আমাদের ঠেকানোর কোন পথ নেই। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বর্তমান সরকারের দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর একটি পাঁচ তারা হোটেলে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ইতিহাসে অনেক কালো দিন গেছে, অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা এতদূর এসেছি। ১৯৭১ সালে বিশ্বের একটি শক্তিধর দেশ পাকিস্তানকে অস্ত্র দিয়ে বোমা দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ঠেকাতে চেয়েছিল।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বিএনপি যদি প্রমাণ করতে চায়, তারা রাজাকারের দল নয়, তাহলে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট ছেড়ে আসুক। জোট না ছাড়া পর্যন্ত বলা যাবে না তারা রাজাকার না। তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি বলেন, মিডিয়ার মানুষদের আমি বলি এত উন্নয়নের কাজ হয়েছে, একের পর এক আন্তর্জাতিক পুরস্কার, আন্তর্জাতিক নির্বাচনে জিতে আসছি। তারপর কীভাবে বলেন, এটা হচ্ছে না, ওটা হচ্ছে না। ভুল তো হবেই, আমরা তো মানুষ। ১৬ কোটি মানুষের দেশে কোন সমস্যা থাকবে না, এটা কী হয়? তখন মিডিয়ার মানুষেরা বলেন, আমরা তো আওয়ামী লীগের ভালো চাই, তাই সমালোচনা করি। যখন আমরা ৫ বছর আগের কথা আর এখনকার কথা বলি তখন তারা বলেন, আমাদের তো নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সজিব ওয়াজেদ বলেন, সত্য আর মিথ্যার মধ্যে কী নিরপেক্ষ থাকা যায়? পাকিস্তান আর স্বাধীন বাংলাদেশের মধ্যে কী নিরপেক্ষ থাকা যায়?
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে যখন আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় তখন অনেকেই বলেছিলেন জামায়াতকে বাঁচাতে এই ধরনের রায়। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জামায়াতকে যদি বাঁচাতেই হয় তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির পরামর্শ অগ্রাহ্য করে কী আমরা কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দিতাম? তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন স্বাধীন আদালত। আদালতের রায়ের বিষয়ে সরকার কী করতে পারে? আমরা বলতে পারি আদালতের ভুল হয়েছে। ৪৩ বছর পর যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশেই ষড়যন্ত্র চলেছে। অনেক কিছু মোকাবেলা করে আমরা এ পর্যন্ত এসেছি। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে স্বাধীনতা পেয়েছি। স্বাধীনতার যে আন্দোলন সে আন্দোলন আমরা শেষ করতে পারিনি, সোনার বাংলা গঠন করতে পারিনি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও কিন্তু বাংলাদেশের সকল মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়নি। বেশির ভাগ দিয়েছে, কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়েছে। তারা কারা সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। তাদেরকে চিহ্নিত করতেই হবে।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর কারা ক্ষমতায় এসেছে? ক্ষমতা দখল করেছে? আর কারা ৭০ সালে পাকিস্তানের দলকে ভোট দিয়েছে। একশ্রেণির লোক ছিল যারা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা করতো, তাই তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তারা পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চেয়েছিল। আরেক শ্রেণি আছে যারা ক্ষমতার লোভে কাজ করেছে।

সুচিন্তা বাংলাদেশের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এ আরাফাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, চিত্রশিল্পী হাসেম খান, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ।