মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এশিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্যই হুমকিমুক্ত হতে হবে যেখানে ছোট দেশগুলোর ওপর বড় দেশগুলোর জবরদস্তি থাকবে না।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে শনিবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতেই হতে হবে। তিনি এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগ বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মৈত্রী গড়তে তিনি যে অঙ্গীকার করেছেন তা নিয়ে ‘কোন প্রশ্ন’ নেই।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে দুই দিনব্যাপী জি-২০ সম্মেলনে ওবামা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে জি-২০ গ্রুপের অর্থমন্ত্রীরা এক বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ বাড়াতে একমত হয়েছিলেন। আর এবারের সম্মেলনে বিশ্ব নেতারা ওই পরিকল্পনার আরো সম্প্রসরাণ করতে পারেন।
বৈঠকের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনও নেতৃবৃন্দের প্রতি মহামারী রোগ ইবোলা, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউক্রেনে সংঘাতের মত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার আহবান জানান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন পশ্চিমা নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা নাও পেতে পারেন। কারণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের উস্কানি ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগ করছে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। রাশিয়া বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনবলেন, ইউক্রেনকে অস্থিতিশীল করার হীন চেষ্টা বন্ধ না করলে রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
এর আগে ওবামা বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন গোটা বিশ্বের জন্য হুমকি’। এক্ষেত্রে তিনি মালয়েশীয় বিমান এমএইচ ১৭ ভূপাতিত করার ঘটনাকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইন ও বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ভিত্তিতেই হতে হবে।
তিনি দক্ষিণ চীন সাগরে আঞ্চলিক বিরোধের বিপদ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে চীনের কথা উল্লেখ করেননি। দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের কর্মকান্ড প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। খবর এএফপি।
