‘আমার মাইয়াক ডাঙাইয়া মাথার চুল কাটি দিছে, মুই বিচার চাম’

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:১৩

যৌতুকের দাবিতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ইতি বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর মাথার চুল কেটে ফেলেছেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন। গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

ইতির মা আকলিমা বেগম ঢাকায় ঝিয়ের কাজ করেন। তিনি খবর পেয়ে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মেয়েকে উদ্ধারের জন্য বেতকাপা গ্রামে যান। সেখানে মোস্তফা ও তার মা-বাবা তাকে হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। 

পরে গৃহবধূ ইতি বেগম বাদী হয়ে রবিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় তিন বছর আগে পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা গ্রামের ফেলু মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার টেপা পদুমশহর উল্লাপাড়া গ্রামের মৃত আমীর উদ্দিনের মেয়ে ইতি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুক চেয়ে প্রায়ই মোস্তফা ও তার মা-বাবা ইতির উপর শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। এ বিষয়ে একাধিকার শালিস বৈঠক হয়। এক পর্যায়ে গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইতিকে একটি ঘরে আটকে রেখে যৌতুক হিসেবে মোটা অংকের টাকা আনতে বলা হয়। টাকা আনতে অপারগতা জানালে তারা ইতিকে মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে তারা গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে মাথার চুল কেটে ফেলে ঘরে বন্দি করে রাখেন। 

পুলিশ খবর পেয়ে শনিবার রাতে ইতি বেগমকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেই সঙ্গে ইতির শাশুড়ি মঞ্জুয়ারা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরদিন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। রবিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে মঞ্জুয়ারা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বামী মোস্তফা মিয়া ও শ্বশুর ফেলু মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

আরো পড়ুন: ভারতের কাছে শান্তি স্থাপনের সুযোগ চাইল পাকিস্তান

নির্যাতনের শিকার ইতি বেগম বলেন, টাকার জন্য ওরা আমাকে মেরেছে। আমার কোনো দোষ নাই। আমি বিচার চাই।

ইতির মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমার মাইয়াক ডাঙাইয়া মাথার চুল কাটি দিছে, মুই বিচার চাম’ 

ইত্তেফাক/অনি