বৈদেশিক ঋণ-সাহায্য সমাচার কার সম্পদ কে নিচ্ছে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ১০:২৬


মেরিকা ও ইউরোপের ধনী পুঁজিবাদী দেশগুলো, একসময় তাদেরই ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে আবদ্ধ থাকা, বিশ্বের ‘গরীব’ দেশগুলোকে ‘ঋণ ও সাহায্য’ দিয়ে থাকে। তাদের নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যাংক, এডিবি ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেও তারা ‘ঋণ’ প্রদান করে থাকে। এ নিয়ে তারা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উঁচুগলায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে থাকে। পৃথিবীর অন্যান্য ‘গরীব’ দেশের মতো বাংলাদেশও এই ‘ঋণ ও সাহায্য’ পেয়ে থাকে। সাধারণ ধারণা হলো, এসব ‘ঋণ ও সাহায্য’ দ্বারা ‘ধনী’ দেশগুলোর অর্থ ও সম্পদ ‘গরীব’ দেশগুলোতে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এই ধারণাটি আসলে কতোটা সঠিক?
‘ঋণ ও সাহায্য’ প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক পর্যায়ে হলো, উন্নত দেশ কর্তৃক গরীব দেশে অর্থ প্রদানের একটি বিষয়। কিন্তু তার পরে শুরু হয় সেই ঋণ ও সাহায্যের অর্থ খরচ করা ও তা ফেরত দেয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রক্রিয়া। এখানেই শুরু হয়ে যায় হিসেবের সব গোলমাল। প্রথম প্রক্রিয়াটিকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হলেও দ্বিতীয় প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রচারণা, এমনকি স্বচ্ছ কোনো হিসেব-নিকেশও করা হয় না। অথচ এই দ্বিতীয় পর্যায়টি প্রায় পরিপূর্ণভাবে দরিদ্র দেশগুলো থেকে ধনী দেশগুলোতে অর্থ ও সম্পদ ফেরত দেয়ার একটি প্রক্রিয়া। দু’টি হিসেব পাশাপাশি মিলিয়ে দেখতে পারলেই কেবল নির্ধারণ করা সম্ভব যে, ‘ঋণ ও সাহায্য’ কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে কে প্রকৃতপক্ষে ‘প্রদানকারী’ ও কে ‘প্রাপক’। অর্থাত্ ‘ঋণ ও সাহায্য’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ও সম্পদ চূড়ান্ত বিবেচনায় কোন্ পক্ষ থেকে কোন্ পক্ষের হাতে স্থানান্তর হয়।
একসময় বিশ্বে কয়েক শতাব্দী ধরে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা চালু ছিল। পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো গোটা বিশ্বকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জিঞ্জিরে আবদ্ধ করে রেখেছিল। বিগত শতাব্দীর মধ্যভাগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে শুরু করে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একের পর এক দেশ রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে থাকে। বিশ্বের রাজনৈতিক ভূগোল দ্রুত বদলে যেতে থাকে। একইসাথে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বিপরীতে একটি শক্তিশালী সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব গড়ে ওঠে। তবে পুঁজিবাদী ব্যবস্থাও শক্তিশালীভাবে পাশাপাশি বহাল থেকে যায়। এর অনেক আগেই পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র গ্রহণ করেছিল। একসময় এই ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়লো। কিন্তু এর ফলে পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের অবসান ঘটলো না। সনাতন ঔপনিবেশিক পন্থার বদলে পুঁজিবাদ নয়া-ঔপনিবেশবাদী পন্থার আশ্রয় নিলো। এই পন্থার প্রধান উপাদান হলো অর্থনৈতিক-ঔপনিবেশবাদ। উপনিবেশগুলোকে সরাসরি রাজনৈতিক দখলে রাখার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ বহুকাল ধরে যে শোষণ ও লুটপাট চালিয়েছিল, নব্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত সেসব প্রাক্তন উপনিবেশগুলোর ওপর একই শোষণ ও লুটপাট পরিচালনার জন্য সে তখন থেকে অর্থনৈতিক অস্ত্র ও পন্থা প্রয়োগের পথ গ্রহণ করা শুরু করলো। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর তথাকথিত ‘ঋণ ও সাহায্য’ কার্যক্রমের বর্তমান প্রক্রিয়াটি হলো সেই নয়া-ঔপনিবেশবাদী তথা অর্থনৈতিক-উপনিবেশবাদী শোষণ পরিচালনার নতুন অস্ত্র ও পন্থা।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে মহামতি লেনিন মার্কসবাদের বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখিয়েছিলেন যে, পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদী যুগে প্রবেশ করেছে। পুঁজিবাদের সাম্রাজ্যবাদী যুগে উত্তরণের বৈশিষ্ট্যগুলোকেও তিনি চিহ্নিত করেছিলেন। এসব বিশ্লেষণকে ভিত্তি করে রচিত পুস্তিকার নামকরণে তিনি তার মূল প্রতিপাদ্য তুলে ধরে তাকে আখ্যায়িত করেছিলেন “সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর (Imperialism-the Highest Stage of Capitalism)” হিসেবে। বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে ইন্দোনেশিয়ার র্যাডিকাল-জাতীয়তাবাদী নেতা প্রেসিডেন্ট সোয়েকার্নো তত্কালীন বিশ্ব বাস্তবতার একটি বিশেষ দিককে আলোকিত করার জন্য উচ্চারণ করেছিলেন নতুন আরেকটি চয়ন। সেটি হলো, “নয়া-ঔপনিবেশিকতাবাদ—সাম্রাজ্যবাদের সর্বোচ্চ স্তর (Neo-colonialism-the Highest Stage of Imperialism)”। সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার মহাবিপর্যয়, তথাকথিত ‘এককেন্দ্রিক বিশ্ব’ প্রতিষ্ঠা ও সাম্প্রতিক পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রবল একাধিপত্যের মাঝে সাম্রাজ্যবাদের এই নয়া-ঔপনিবেশিক চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের কোনো মৌলিক রূপান্তর ঘটেনি।
পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থাগুলো থেকে পাওয়া ‘ঋণ ও সাহায্যের’ ফলে অর্থ ও সম্পদ ধনী দেশ থেকে দরিদ্র দেশে আসে, নাকি তা দরিদ্র দেশ থেকে ধনী দেশে স্থানান্তরিত হয়—এ বিষয়ে সম্প্রতি ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকার ২ নভেম্বর সংখ্যায় একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রদর্শিত হিসেব থেকে দেখা যায় যে, ১৯৭৫-এর পরবর্তী ৩৯ বছরে এদেশে বৈদেশিক ঋণ এসেছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রচারের বাইরে থেকে যাওয়া বিষয়টি হলো-এই অর্থ কিভাবে, কোথায় ও কি উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে? হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে, এর ৫১ শতাংশ অর্থাত্ ৭৮ হাজার ১৬৩ কোটির বেশি অর্থ চলে গেছে গৃহীত ঋণের দায় (অর্থাত্ সুদ-আসল) পরিশোধে। তাছাড়া আরো ২৪ শতাংশ অর্থাত্ ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে প্রকল্প বাবদ পণ্য আমদানি ও প্রকল্পের জন্য বিদেশি পরামর্শকদের ফি প্রদানে। এই হিসেব থেকে দেখা যাচ্ছে যে ঋণের ৭৫ শতাংশ ফিরে গেছে ঋণ প্রদানকারী দাতা (!) দেশে। গৃহীত ঋণের মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থাত্ ৩৮ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি থেকে গেছে দেশে। সেই টাকার কতো শতাংশ ‘সিস্টেম লস’ তথা ঘুষ-দুর্নীতি-কমিশন ইত্যাদি বাবদ অপচয় হয়েছে, কত শতাংশ উচ্ছিষ্ট হিসেবে শেষ পর্যন্ত গৃহীত ঋণের কতো নগণ্য অংশ জনকল্যাণে ব্যয় হয়েছে—সেটি অবশ্য একটি ভিন্ন হিসেবের বিষয়। কিন্তু ভিন্ন হলেও তা কিন্তু কেবল দেশের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। তথাকথিত দাতারা এদেশে তাদের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাব বজায় রাখার জন্যই এসব ‘সিস্টেম লস’ সম্পর্কে উপরে উপরে কিছু নীতিবাক্য প্রচার করলেও, বাস্তবে সেসব যখন ঘটতে থাকে তখন তার প্রতি চোখ বন্ধ করে রাখে। শুধু তাই নয়, তারা প্রকৃতপক্ষে এই অসত্ প্রক্রিয়াকে নানাভাবে উত্সাহিত করে। এভাবে তারা একদল পরগাছা-স্বরূপ তাঁবেদার দালাল-গোষ্ঠী সৃষ্টি ও লালন করে থাকে।
অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের ১৯৭১-৭২ থেকে ১৯৯৮-৯৯ পর্যন্ত সময়ব্যাপী এক গবেষণা থেকে জানা যায়, ওই সময়ে প্রাপ্ত ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক সাহায্যের মধ্যে ২৩ হাজার কোটি টাকাই নিয়ে গেছে বিদেশি যন্ত্রপাতি সরবরাহকারীরা, যা প্রাপ্ত মোট ঋণের ১৩ শতাংশ। বিদেশি পরামর্শকদের দিতে হয়েছে ২১ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা (মোট ঋণের ১২ শতাংশ)। স্থানীয় কমিশন এজেন্টরা পেয়েছে ১০ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা (৬ শতাংশ)। এছাড়া নানা কায়দায় ১২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা পকেটে ভরেছে দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদরা, যা মোট বৈদেশিক সাহায্যের ৭ শতাংশ। আর বৈদেশিক ঋণের ৭ হাজার ২শ’ কোটি টাকা (৪ শতাংশ) পেয়েছে দেশীয় কনসালট্যান্টরা, ২৩ হাজার ৪শ’ কোটি টাকা (১৩ শতাংশ) পেয়েছে নির্মাণ ঠিকাদাররা, ৩৬ হাজার কোটি টাকা (২০ শতাংশ) গেছে গ্রাম ও শহরের অন্যান্য ধনীর পকেটে। বাকি ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে জনগণের কাজে, যা মোট ঋণের মাত্র ২৫ শতাংশ। অথচ বছরের পর বছর বৈদেশিক ঋণ এবং সুদের বিশাল ব্যয় বহন করছে এদেশের মানুষ।
কথিত ‘ঋণ ও সাহায্যের’ মধ্যে যা অনুদান হিসেবে আসে তার পরিমাণ অতি সামান্য। যে ‘ঋণ ও সাহায্য’ আসে তার প্রায় সবটাই হলো সুদসহ পরিশোধযোগ্য ঋণ। মাঝে মধ্যে সুদবিহীন ঋণ দেয়া হয় বটে, কিন্তু তার পরিমাণও যত্সামান্য। এ যেন অনেকটা বিস্বাদ তেতো ওষুধ জোর করে খাওয়ানোর সুবিধার্থে তার চতুর্দিকে মিষ্টি কোটিং দিয়ে তা গেলানোর চেষ্টার মতো একটি ব্যাপার। অথচ প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের কাছে এমন ধারণা দেয়া হয় যে, এসব অর্থ যেন ফ্রি দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের প্রচারণা মোটেও সত্য নয়। ‘ঋণ ও সাহায্যের’ সিংহভাগ আসে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির সুদের মহাজনী কারবারের বিনিয়োগ হিসেবে। প্রদত্ত ঋণের অর্থ যদি দাতা (!) দেশগুলো তাদের নিজেদের দেশের ব্যাংকে গচ্ছিত রাখতো তাতে তাদের যে লাভ হতো, দরিদ্র দেশগুলোতে সে টাকা ঋণ প্রদান করলে তা থেকে তাদের আয় হয় তার চেয়ে বেশি অর্থ। তাহলে যুক্তিসংগতভাবেই প্রশ্ন জাগে—ঋণ দিয়ে ওরা আমাদের ‘দয়া’ করছে, নাকি ঋণ গ্রহণ করে আমরা তাদেরকে উল্টো ‘দয়া’ ও ‘সাহায্য’ করছি?
সরাসরি আর্থিক সুবিধা ছাড়াও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দাতা (!) দেশগুলো নানা ধরনের পরোক্ষ ও অর্থ-বহির্ভূত সুবিধা আদায় করে নেয়। বিভিন্ন শর্ত আরোপের মাধ্যমে তারা সেসব সুবিধা নেয়। আইএমএফ-এর ‘বর্ধিত ঋণ সুবিধার’ বিপরীতে রয়েছে ১৬টি শর্ত, এডিবির একটি ঋণের জন্য রয়েছে ১৫টি শর্ত। ভ্যাট সম্প্রসারণ করে রাজস্ব আয় বাড়ানো (যাতে গৃহীত ঋণের টাকা সুদে-আসলে ফেরত পাওয়া নিশ্চিত হয়), ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুত্-জ্বালানির দাম বাড়ানো, সরকারি খাতের ব্যয়-সংকোচন, বেসরকারি খাতের প্রসার ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন মৌলিক নীতিগত ও খুঁটিনাটি শর্ত এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব শর্ত ছাড়াও রয়েছে ঋণদাতাদের অনুষঙ্গ প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরামর্শ সেবা নেয়ার বাধ্যবাধকতা (যার জন্য অতিরিক্ত দাম বা ফি দিতে বাধ্য করা হয়)।
বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের বিভিন্ন কঠিন শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার দখল তুলে দিতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি বেসরকারি খাতের হাতে। ফলে তারা মনোপলি (একচেটিয়া বাজার) সৃষ্টি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে সেসবের জন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় করে নিচ্ছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। কমে যাচ্ছে সঞ্চয়। সরকার উচ্চ হারের রাজস্ব আদায়ে তত্পর থাকছে। এসবের প্রভাব গিয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। এতে অনেক ব্যবসা সংকুচিত হয়ে আসছে। শিল্প-কারখানা বন্ধেরও উপক্রম হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব। এর প্রভাবে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ দাতাদের ঋণের টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। শর্ত অনুযায়ী দাতা সংস্থার পছন্দের কোম্পানি থেকে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় যেমন অনেক নিম্নমানের ও অপ্রয়োজনীয় আমদানি হয়, তেমনি হয় অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক নিয়োগ। নিম্নমানের  ফলে ঋণের একটি বড় অংশই অপচয় হচ্ছে। এসবের পুরো দায়ভার দেশের জনগণকে নিতে হচ্ছে।
একাত্তরে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সূচনাকালে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ও পরবর্তীকালের অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ শর্তযুক্ত ঋণের ধারণা ও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বিশ্বব্যাংকের প্রধানের বাংলাদেশ সফরকালে তার সাথে আলোচনার সময়, ‘বাংলাদেশের কি সাহায্য প্রয়োজন’ তার এরূপ প্রশ্নের জবাবে তিনি সহাস্যে বলেছিলেন, ‘আমাদেরকে শর্তমুক্তভাবে গরু ও বলদ দিন। যুদ্ধের গোলাগুলিতে আমাদের এসব সম্পদ নষ্ট হওয়ায় জমি চাষ করতে সমস্যা হচ্ছে।’ বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘দরকার হলে বাঙালি ঘাস খেয়ে থাকবে, তবুও সে শর্তযুক্ত ঋণ-সাহায্য নেবে না’। এসব নীতি ও এসব কথার মধ্যে ছিল প্রকৃত জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতিফলন। অথচ এসব কথা এখনকার শাসকরা ভুলে গেছে। এর চেয়ে দুঃখ ও ক্ষোভের বিষয় আর কি হতে পারে?
লেখক :সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)
E-mail : [email protected]