ভোটার হতে যেতে হবে সার্ভার স্টেশনে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৪, ১০:৩৫

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে হলে ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে উপজেলা বা থানা সদরে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভার স্টেশনে যেতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদের যে কার্যক্রম বর্তমানে চালু আছে আগামীতে তা আর থাকছে না। ভোটার তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের চিন্তা করছে কমিশন। ফলে ভোটার তালিকায় যেভাবে বিপুল সংখ্যক যোগ্য নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে, তেমনি একইভাবে মৃত ব্যক্তির নামও ভোটার তালিকায় থেকে যাবে। তবে ইসি জানিয়েছে পাইলট প্রকল্প হিসাবে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় নয়। এ ধরনের কার্যক্রম করলে আইনগতভাবে জটিলতা তৈরি হবে। রাজনৈতিভাবে সমালোচনার মুখে পড়বে কমিশন।
ইসি সচিবালয়ের সচিব সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কেন্দ্রীয় তথ্য ভাণ্ডারের সঙ্গে বিভাগীয়, জেলা-উপজেলার সার্ভার স্টেশনগুলোর সংযোগ স্থাপন হলে আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে না। ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে এসে ফরম পূরণ করে ভোটার হতে পারবেন। এটি বাস্তবায়নের আগে ভোটার তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদ না থাকার ফলে ভোটার কম হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। যদি ভোটার হওয়ার প্রবণতা কম হয় তাহলে তিন বছর অথবা ৫ বছর পর পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হালনাগাদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থা চালু করার আগে কমিশনকে ভোটার তালিকা প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রচলিত আইনের সংশোধন ও আধুনিকীকরণকল্পে প্রণীত আইন ও ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২ তে ব্যাপক সংশোধনী আনতে হবে। কারণ ভোটার তালিকা বিধিমালা, ২০১২-এর ৩ ধারায় উল্লেখ আছে— ‘বাড়ি বাড়ি গমনপূর্বক ভোটারদের মধ্যে নির্ধারিত ফরম বিতরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহকারী থাকবে।’
কনস্ট্রাকশন অব সার্ভার স্টেশন ফর ইলেকটোরাল ডাটাবেজের (সিএসএসইডি) প্রকল্পের আওতায় ৪৬৪টি সার্ভার স্টেশন স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৪টি উপজেলায় বা থানায়, ৫১টি জেলা শহরে এবং ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই সার্ভার স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকায় ভোটারদের সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্ভার স্টেশনে গিয়ে ভোটার হতে হবে।
জানুয়ারিতে সার্ভার স্টেশনের সংযোগ
এদিকে, উপজেলা পর্যায়ে সার্ভার স্টেশনের জন্য ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের (ভিপিএন) কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসেই সার্ভার স্টেশনগুলোর সরঞ্জাম কেনা শেষ হচ্ছে। কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভার স্টেশনের সঙ্গে উপজেলায় স্থাপিত সার্ভার স্টেশনগুলোর সংযোগ স্থাপন করা গেলে সহজেই ভোটার হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন ইত্তেফাককে বলেন, জানুয়ারি থেকেই সার্ভার স্টেশনগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে। সার্ভার স্টেশনগুলোর ইকুইপমেন্ট ও সংযোগ স্থাপন সংক্রান্ত ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উপজেলায় সার্ভার স্টেশনের সংযোগ চালু হলে সহজেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, সংশোধন, হারিয়ে যাওয়া কার্ড উত্তোলন করা যাবে।
মার্চ থেকে স্মার্ট কার্ড
আগামী বছরের মার্চ থেকে ভোটারদের হাতে উন্নতমানের স্মার্ট কার্ডের জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দিতে চায় কমিশন। এজন্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পরিবর্তে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে জাতিকে স্মার্ট কার্ড উপহার দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ইসি। ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল ভোটারের হাতে নির্ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে কমিশন। এক সঙ্গে ৯ কোটি ২০ লাখ ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেয়া সম্ভব হবে না। তবে ধারাবাহিকভাবে সবার হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দিতে পারবো।
ডিসেম্বরে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন
ভোটারদের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেয়ার আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরে ইসির তথ্য ভাণ্ডারে সংরক্ষিত ভোটারদের তথ্য ও বিদ্যমান ভুলসমূহ সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে। অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার তাদের বিদ্যমান ভুল সংশোধন করতে পারবেন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩১ জানুয়ারি
আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। আইন অনুযায়ী আগামী ২ জানুয়ারি সারাদেশে হালনাগাদকৃত ৪৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ জন ভোটারের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। হালনাগাদকৃত ৫১৪টি উপজেলা-থানার প্রতিটিতে এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকার হালনাগাদ সংক্রান্ত সকল দাবি, আপত্তি ও সংশোধনী দাখিল করা যাবে আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে। ভোটারদের ঠিকানা ও নাম পরিবর্তন, জাতীয় পরিচয় পত্রের যে কোন ধরনের সংশোধনী এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারযোগ্য যে কোন নাগরিক এই সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য দাখিলকৃত দরখাস্তসমূহের নিষ্পত্তি করা হতে পারে ২২ জানুয়ারি। আর দরখাস্তের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে ২৬ জানুয়ারি। নোটিসে জানানো হয়, পাশাপাশি বই আকারে ভোটারের খসড়া প্রকাশ করা হচ্ছে।