দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে চুলার গ্যাসের দাম!

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ১০:১৯

আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলো। আবাসিক খাতে গ্যাসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাত্ এক চুলার ক্ষেত্রে প্রতি মাসে ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা এবং দুই চুলার ক্ষেত্রে ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকেই নতুন দাম কার্যকর করতে গত রবিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে কোম্পানিগুলো আলাদাভাবে এ প্রস্তাব দিয়েছে।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবর পেট্রোবাংলা গ্যাস বিতরণকারী সব কোম্পানির পক্ষে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সে প্রস্তাব যথাযথ হয়নি বলে কোম্পানিগুলোকে আলাদাভাবে প্রস্তাব দিতে বলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, যে পাঁচটি কোম্পানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলো হচ্ছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং সুন্দরবন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।
সূত্র জানিয়েছে, আবাসিকখাতে মিটার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার ঘনফুট ১৪৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা রয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২৬৮ টাকা শূন্য ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা, শিল্প গ্রাহকদের ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২০ টাকা, চা বাগানে ১৬৫ টাকা ৯১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা, বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ৭৯ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা, সার কারখানায় ৭২ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর কেনার ক্ষেত্রে পাইকারি দাম প্রতি হাজার ঘনফুট ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা ও সাধারণের জন্য প্রতি হাজার ঘনফুট ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের উপর এখন শুনানি হবে। তবে শুনানির তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। বিইআরসি সদস্য দেলওয়ার হোসেন বলেছেন, দাম বাড়ানোর সব প্রক্রিয়া মেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও সবচেয়ে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আবাসিকখাতের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে। মূলত আবাসিকখাতে গ্যাসের ব্যবহার নিরুত্সাহিত করতে দাম দ্বিগুণের বেশি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এরপর ২০১২ সালের ২০ মে পেট্রোবাংলা বিইআরসিতে আবাসিক গ্রাহকদের ছাড়া অন্যখাতগুলোতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ খাতে লোকসান নেই বলে বিইআরসি সে সময় দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। তবে এখন আগের চেয়ে পেট্রোবাংলার মুনাফা বাড়লেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া এ খাতে সরকারের কোনো ভর্তুকিও নেই। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিদেশি ও দেশি কোম্পানির কাছ থেকে পেট্রোবাংলা সাত হাজার ৮২৯ কোটি টাকার গ্যাস কিনেছে। একই বছর বিক্রি করেছে ১১ হাজার ৫৮ কোটি টাকার গ্যাস। লাভ হয়েছে তিন হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দেশে গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট মেটাতে তরল গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তরল গ্যাস আমদানি করা হলে গ্যাসের দাম অনেক বেড়ে যাবে। এ জন্য গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে। ২০০৯ সালের পর গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।