‘সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ১৯:৪৯
বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও জঙ্গি তত্পরতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) এক গবেষণায় বলা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধ বা সংঘাত নেই এমন ১৩টি দেশ রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলগত বিদ্বেষের কারণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঝুঁকিতে আছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। 
সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক (জিটিআই) ২০১৪ প্রকাশ করা হয়েছে। সূচক অনুযায়ী ২০১৩ সালে ৫ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে ১২৪টি দেশের মধ্যে ২৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গতবার ১৬২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থান ছিল ৫৭ নম্বরে। অন্যদিকে, ১০ স্কোর নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইরাক। গত বছর দেশটিতে জঙ্গি হামলায় ৬ হাজার ৩৬২ জন নিহত হয়।
সূচকে আরো বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে প্রায় ১০ হাজারের মতো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে এ হামলার ঘটনা ৪৪ শতাংশ বেড়েছে বলে আইইপি’র ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার কারণে প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৮ জনের প্রাণ গেছে। মৃতের হার গত বছরের চেয়ে ৬১ শতাংশ বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে সন্ত্রাসী হামলায় ২৪টি দেশে ৫০ জনের বেশি করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা না ঘটলেও সন্ত্রাসের বিস্তার দেখা গেছে।
বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণায় বলা হয়, সংঘাত বা বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি নেই। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলগত বিদ্বেষের কারণে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ঝুঁকি আছে। আইপি মনে করছে, বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা-নিপীড়নের পাশাপাশি নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, দলগত সমঝোতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে। যে কারণে ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশকে এসেছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এমন ঝুঁকিতে থাকা অন্যদেশগুলো হলো অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, আইভরি কোস্ট, ইথিওপিয়া, ইরান, ইসরাইল, মালি, মেক্সিকো, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং উগান্ডা।
গবেষণায় আরো বলা হয়, গত বছর অধিকাংশ সন্ত্রাসী ঘটনার পেছনে ছিল ইসলামী স্টেট, আল কায়েদা, তালেবান ও বোকো হারামের মতো জঙ্গি সংগঠন। বেসামরিক নাগরিক ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিই এসব সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়।