অভিনয় নয় ক্রিকেটেই নজর দিচ্ছেন পেসার আমির

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৪, ১৬:৫৩


ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় সিনেমায় অভিনয় বাদ দিচ্ছেন পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত পেসার মোহাম্মদ আমির। ২০১৫ সালের আগস্টে নিষিদ্ধাদেশের সময় শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড(পিসিবি) আমিরকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে আবেদন করবে বলে ঘোষণা দেয়ার পর অভিনয় জীবনকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষনা দেন আমির।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) আমির বলেন,‘ আমার কাছে সব সময়ই ক্রিকেট অগ্রগন্য। এবং এখন পিসিবির কারনে আমি হয়তো খুব শিগগিরই ক্রিকেটে ফেরার একটা সুযোগ পাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন,‘ব্লাইন্ড লাভ’ নামক সিনেমায় অভিনয় করার পরিকল্পনা আমি এখন বাদ দিয়েছি এবং আমি কেবলমাত্র প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে ফেরার জন্য নিজকে প্রস্তুত করার উপড়ই নজর দিতে চাই।’
অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে এ বছর সিনেমাটিতে অভিনয় করার প্রস্তাব গ্রহন করেছিলেন ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সর্ব প্রকার ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়া আমির।
আমির বলেন,‘ প্রস্তাবটি যখন আসে তখন আমি কিছুই করছিলাম না এবং চিত্র নির্মাতার কাছ থেকে বেশ ভাল অংকের অর্থের প্রস্তাব পাই । তাই তার সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাবটি আমি গ্রহন করি। প্রযোযক ফয়সাল বুখারি বর্তমানে সিনেমাটির শুটিংয়ের পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে অত্যন্ত ব্যস্ত আছেন। কিন্তু এ জন্য এখন আমি আর তাকে সময় দিতে পারছিনা।’
২২ বছর বয়সী আমির বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত খেলোয়াড়দের জন্য আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী আইনে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই তিনি মাঠে ফেরার দিকে তাকিয়ে আছেন।
তিনি বলেন, ‘পুনরায় ক্রিকেট শুরু করতে আমার আর তর সইছেনা। কেননা সব সময়ই এটাই ছিল আমার ভাবনা জুড়ে।’
আইসিসির পরিবর্তিত নিয়মানুসারে যদিও আমিরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী আগস্টে। তবে আমিরকে ক্লাব ও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমতি দেয়ার জন্য বিশ^ ক্রিকেট নির্বাহী সংস্থার কাছে আবেদন করতে যাচ্ছে পিসিবি। পিসিবির অনুশীলন সুবিধা ব্যবহারের অনুমতিও পেতে পারেন তিনি।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টেস্টে কুখ্যাত স্পট ফিক্সিং কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়ার পর আইসিসি কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে নিজের জীবনটা বেশ কঠিন হয়ে গেছে বলেন বাঁ-হাতি এ পেসার।
তিনি বলেন,‘ ক্রিকেট ছাড়া জীবন আমার মত মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং এছাড়া এমন ধরনের কেলেংকারীতে জড়ানোর লজ্জা আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।’
ব্যক্তিগতভাবে নিজের দৈনন্দিন অনুশীলন অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান আমির। তবে প্রথম শ্রেণী কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঠিক পরিবেশ ও সুবিধাদি অনেক ভিন্নতর।
নিষিদ্ধ হওয়ার আগে পাকিস্তানের হয়ে ১৪ টেস্ট খেলেছেন আমির। ৫০ টেস্ট উইকেট শিকার করা সবচেয়ে তরুণ বোলার ছিলেন তিনি।