রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, এই ঘটনায় গোটা জাতির সঙ্গে আমিও গভীরভাবে ব্যথিত ও দুঃখিত। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন জ্ঞানতাপস শিক্ষক এভাবে খুন হবেন তা কারোরই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেয়ার আহ্বান জানাই। একইসাথে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় পরিবার ও নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্য-প্রযুক্তির। এ বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ। এদের তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলেই তারা জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে যুগোপযোগী তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। ফলে মাধ্যমিক স্তর থেকে শিক্ষার্থীরা তথ্য প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হচ্ছে। গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আজকের এই সমাবর্তন একদিকে যেমন তোমাদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে, তেমনি দায়িত্বও অর্পণ করছে। সে দায়িত্ব নিজের পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, সর্বপরি দেশ ও জাতির প্রতি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক মো. রফিকুল আলম বেগ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা ২ হাজার ৫০ বিএসই গ্রাজুয়েট ৩৭ জন এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারীর ডিগ্রী অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে পেশ করেন। চ্যান্সেলর ডিগ্রী অনুমোদন করেন এবং ডিগ্রিপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। রুয়েটের স্নাতক শ্রেণির (বিএসসি ইঞ্জি.) ২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষ (০৩ সিরিজ) থেকে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষ (০৮ সিরিজ) পর্যন্ত এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণীর (এমএসসি ইঞ্জি., এম ইঞ্জি., এমফিল, পিএইচডি) ডিগ্রীপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কৃতী গ্রাজুয়েটদের গোল্ড ম্যাডেল ও ক্রেষ্ট প্রদান করেন। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
