রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন (৫০) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ১১ জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় শুনানি শেষে রাজশাহীর মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার প্রত্যেকের দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের চতুর্থ দিনে বুধবার বিচার দাবিতে আন্দোলন ক্যাম্পাস থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বুধবার ক্লাসে ফিরলেও পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল সাড়ে তিনটায় নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীসহ নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শত শত মানুষ স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক শফিউলের খুনীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের দাবি জানান। অন্যদিকে দুপুর ১২টার দিকে একই দাবিতে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, অধ্যাপক শফিউল হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া বিনোদপুরস্থ ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবিরসহ ১১ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়। বুধবার শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। অন্যান্য আসামিরা হলেন, বাগমারার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, নিহত অধ্যাপক শফিউলের প্রতিবেশী মসিউর রহমান, দাশমারীর হাসিবুর রহমান ও রেজাউল করিম, দুর্গাপুরের ফজলুল হক, দেওয়ানপাড়ার মো. সাগর ও জিন্নাত আলী, শ্যামপুরের আরিফ, পাবনার ঈশ্বরদীর সাইফুদ্দিন ও ইসলামীয়া কলেজের প্রভাষক মোশাররফ হোসেন।
শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরেছেন: টানা তিনদিনের কর্মবিরতি শেষে বুধবার ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষকরা। এছাড়া শিক্ষক সমিতির পূর্বঘোষিত সাতদিনের কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করবেন।
বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ওয়ারদাতুল আকমাম জানান, ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও মানবিক বিবেচনায় ২০১৪-১৫ সেশনে প্রথমবর্ষ অনার্সে ভর্তির কার্যক্রম চলছে।
