বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর তাগিদ দিয়েছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন— বিনিয়োগের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার। সব মিলিয়ে প্রকৃত সুদের হার হয়ে পরে ২২ শতাংশ হারে। অন্য দিকে, আমানত ও ঋণের সুদের হার ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্য থাকলেও তা ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বুধবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দলিল প্রণয়ন বিষয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাথে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন— পরিকল্পণামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ বিষয়ে তিনি বলেন— ব্যাংক স্প্রেড কিছুতেই ৩ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। ব্যাংকঋণ নিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন ঋণ বিতরণে আস্থা পাচ্ছে না। অন্য দিকে, পুঁজিবাজার নানা কারণেই শক্তিশালী না হওয়ায় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতী হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবকাঠামো খাতেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন— আসছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি হবে প্রবৃদ্ধিবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের বলেন— সরকারি প্রণোদনা, সহজ শর্তে কম সুদে ঋণ দিলে জুতাশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিদেশি ক্রেতাদের শর্ত অনুযায়ী হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারিশিল্পকে স্থানান্তর না করলে তারা চামড়া ও জুতা কোনোকিছুই কিনবে না বলে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা ছাড়া এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন— রফতানিপণ্য বহুমুখীকরণের দিকে নজর দিতে হবে। চীন এ শিল্পে বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে। সরকার এ শিল্পে প্রণোদনা বাড়ালে আমরা চীনের পরেই যেতে পারি।
বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস প্রতিনিধি জানান— আইটিশিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো— মানবসম্পদ। দেশের বছরে ৩ লাখ আইটি গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা ১০ লাখ বের করা হবে। সফটওয়্যারের স্থানীয় বাজার উন্নয়নে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ জন্য সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনা পেলে শিল্পটি দ্রুতই এগিয়ে যাবে। বিশ্বের ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সফটওয়্যার বাজার রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের দৃশ্যমান কোনো অংশগ্রহণ নেই।
বাংলাদেশ হ্যান্ডিক্রাফটস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যসোসিয়েশনের প্রতিনিধি বলেন— ৪ থেকে ৫টি ক্রাফট ভিলেজ করতে হবে, যেখানে গ্যাস, বিদ্যুত্ ও অবকাঠামো সমস্যা থাকবে না। এ বিষয়ে পরিকল্পণা মন্ত্রী জানান— শিগগিরই ঢাকার বেনারসি পল্লিতে এ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তি যারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে।
