‘শফিউল হত্যায় জড়িত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত জঙ্গিরা’

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৪, ১১:৫৩



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন আদালতে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়ন্ত্রিত জঙ্গিরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। সন্দেহভাজন আটককৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন আক্তার এর আদালতে আটক ১১ জনের রিমান্ড শুনানির সময় আলমগীর হোসেন আদালতকে এই তথ্য দেন।

শুনানিতে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কোর্ট পরিদর্শক আব্বাস হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুশান্ত সরকারও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সমর্থন করে আদালতে বক্তব্য দেন। শুনানি শেষে বিচারক পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে ঐ ১১ জনের প্রত্যেককে দুইদিন করে পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। তারা হলেন- নগরীর বিনোদপুরস্থ ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন কবির, ওই কলেজের শিক্ষক ফজলুল হক, বাগমারার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, নিহত অধ্যাপক শফিউলের প্রতিবেশী মসিউর রহমান, দাশমারীর হাসিবুর রহমান ও রেজাউল করিম, দেওয়ানপাড়ার মোঃ সাগর ও জিন্নাত আলী, শ্যামপুরের আরিফ, পাবনার ঈশ্বরদীর সাইফুদ্দিন ও মোশাররফ হোসেন।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামায়াত-শিবির বিভিন্ন সময়ে গোপনে বিভিন্ন নামের জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালায় এমন তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আটক আসামিরা সকলেই জামায়াত-শিবিরের সমর্থক। আসামিদের আইনজীবীও বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেছেন।’ তবে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত কোনো কোনো সংগঠন কীভাবে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং অধ্যাপক শফিউল কেন তাদের টার্গেট হলেন? তদন্তের স্বার্থের কথা বলে তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান ওসি আলমগীর হোসেন।

তবে আটককৃতদের আইনজীবী একরামুল হক আদালতে দাবি করেন, তার মক্কেলদের পুলিশ হয়রানি মূলকভাবে গ্রেফতার করেছে। তারা জামায়াতের সমর্থক হলেও সাধারণ মানুষ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর (শনিবার) বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার ভাড়া বাসার সামনে লালনভক্ত রাবির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শফিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এন্তাজুল হক নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।