আবার সেই একই চিত্র। আবার সেই নেপালের কাছেই হার। আবার সেই সেমিফাইনালেই বিদায় বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্নের ফাইনালে উঠা হলো না বাংলাদেশের। নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরে বাংলাদেশে এখন বাড়ির পথে। ফাইনালে সাফের বর্তমান চাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গি বর্তমান রানার্সআপ নেপাল।
গত দুটি আসরের মতো এবার তৃতীয় আসরেও এই দুটি দলই সাফের ফাইনালে উঠেছে।
নেপালকে নিয়ে ভয় ছিল। কারণ সাফে ভারতের পর নেপাল ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী দল। কিন্তু কি আর করা, ভাগ্যে লেখা ছিল আবার সেই নেপালের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
২০১০ সালে কক্সবাজারে প্রথম নারী সাফে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠে চমক দিয়েছিল। সেবারও নেপালকে পেয়েছে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ।
৩-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়। এবার যখন নেপালকে সেমিতে পেয়েছিল বাংলাদেশের সুইনু, সাবিনা, খালেদা, মিরোনা, নুবাই চিং মারমা, অম্রাচিংরা, তাদের মনে প্রতিশোধের একটা নেশা ছিল। নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে একটা জেদ মেটাতে চেয়েছিল এই ফুটবলাররা।
চার বছর আগের মনের সেই ক্ষতে শীতল প্রলেপ পড়বে নেপালকে হারাতে পারলে। কিন্তু সেটা হলো কোথায়। কাটা ঘায়ে এ যেনো নুনুরের ছিটা পড়লো বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের মনে। উননের জ্বালাটা আরো বেশি ধরালো পেনাল্টি গোলে হারের কারনে। আফসোসটা আরো বেশি বেড়ে গেলো। কারণ এমনিতে নেপালের সাথে পেরে উঠার কথা না। নেপালকে আটকে রাখাটাই বড় কথা। গোল করতে দেবে না সাবিনারা। এমন পন করেই কাল ইসলামাদের জিন্নাহ স্টেডিয়ামে নেমেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য নিয়ে সেভাবেই খেলে যাচ্ছিলেন জাপানী কোচ সুকিতা নরিওর নিদের্শনায়।
ভালো খেলার প্রদর্শনীটা সবার চোখে লেগেছিল স্টেডিয়ামে আসা পাকিস্তানে বাংলাদেশী দর্শকদের। কিন্তু ৫৬ মিনিটে একটা পেনাল্টি বাংলাদেশর স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়।
পেনাল্টি থেকে গোল পেয়ে নেপালের সাজানা রানা বল রাখেন বাংলাদেশের জালে ১-০। এই একটা গোলই বাংলাদেশের সাফের ফাইনালে উঠার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে। স্বপ্নের দুয়ার থেকে ফেরত এলো বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল।
অথচ যত দুর জানা গেছে ইসলামাবাদের মাঠে নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা দারুন খেলে আসছিল। বল পজেশনে নেপালের চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। নেপালিরাও বাংলাদেশের খেলার প্রশংসা করছিলেন। নেপালের ফুটবলাররা গোলের যে সুযোগ পেয়েছিলেন তা কাজে লাগাতে দেয় নি বাংলাদেশ।
ইসলামাবাদ নারী সাফে বাংলাদেশ কঠিন গ্রুপে পড়ে ছিল। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ছিলো ভারত, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপ। প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশে সেমিফাইনালে উঠবে।
প্রথম ম্যাচে ৬-১ গোলে আফগানিস্তানকে হারায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে হারে ৫-১ গোলে।
তৃতীয় ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় বাংলাদেশ। সব বাঁধা টপকে সেমিতে উঠে নেপালের কাছে ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা।
