পুরনো বিদ্যুেকন্দ্রে উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ানোর (রি-পাওয়ারিং) উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যে কেন্দ্রগুলো সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুত্ উত্পাদন করে সেগুলো এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে ঘোড়াশাল-৩, ৪ ও ৬ এই তিনটি কেন্দ্রে রি-পাওয়ারিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্য পুরনো কেন্দ্রগুলোকেও পর্যায়ক্রমে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। জ্বালানির ব্যবহার সীমিত পরিমাণ বাড়িয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সমপ্রতি বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে গ্যাসচালিত স্টিম বিদ্যুত্ প্লান্টগুলোর অধিকাংশেরই লাইফটাইম (সময়সীমা) শেষ হয়েছে। আর উত্পাদনও কমে এসেছে। ফলে রি-পাওয়ারিং জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, যেসব কেন্দ্র অনেক পুরনো, সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুত্ উত্পাদন হচ্ছে সেসব কেন্দ্র রি-পাওয়ারিংয়ের জন্য সুপারিশ করেছি। তিনি বলেন, পুরনো কেন্দ্রে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা অনেক বেশি বিদ্যুত্ পেতে পারি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন তিনটি কেন্দ্র রি-পাওয়ারিং করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পুরনো কেন্দ্রগুলোকেও রি-পাওয়ারিং করা হবে। এতে একটি কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারবে। বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানিয়েছে, উত্পাদনে যাওয়ার পর ২০ বছর পার করেছে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা ৩১টি। এর মধ্যে কোন কোন কেন্দ্রের বয়স ৫০ ছাড়িয়েছে। এগুলোর কোন কোনটির উত্পাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। রি-পাওয়ারিং করা হলে এসব কেন্দ্রের উত্পাদন বাড়বে। ইতিমধ্যে সরকার ঘোড়াশাল-৩, ৪ ও ৬ নম্বর বিদ্যুত্ কেন্দ্র রি-পাওয়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ৩টি কেন্দ্র রি-পাওয়ারিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরনো বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রগুলোকে নতুন করে সাজানোর মাধ্যমে রি-পাওয়ারিং করা হয়। এর মাধ্যমে উন্নত উপকরণ প্রতিস্থাপন করে পুরনো বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রগুলোকে নতুন করে সাজানো হলে উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি প্রতিটি প্লান্টের মেয়াদ বাড়বে ২০ বছরেরও বেশি। এতে স্বল্প বিনিয়োগ লাগবে এবং অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হবে না।
রি-পাওয়ারিংয়ের ফলে প্রতিটি ইউনিটের কার্যকারিতা ৪৫ থেকে ৫৫ ভাগ বাড়বে। আর যে পরিমাণ গ্যাস দিয়ে ঐসব কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, সেই একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে দ্বিগুণ বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব। এছাড়া কার্যকর যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রি-পাওয়ারিং করা হলে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণের মাত্রা কমে আসে। কমে আসবে বায়ু দূষণও।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান আব্দুহু রুহুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, রি-পাওয়ারিং করা হলে একটি কেন্দ্র কমপক্ষে আরো ২৫ বছর উত্পাদনে থাকবে। যে কেন্দ্র থেকে আমরা এখন ৩০ শতাংশ বিদ্যুত্ পাচ্ছি, রি-পাওয়ারিং করা হলে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা বলেন, ১০/১২ বছর পরই আবার খরচ করতে হবে রি-পাওয়ারিং প্লান্টে। তারা কিছু না জেনেই বলেন। কারণ আমরা এই প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে সবদিক পর্যালোচনা করে দেখেছি। একটি কেন্দ্র রি-পাওয়ারিং করা হলে অতিরিক্ত যে খরচ তা মাত্র ৩ বছরেই উঠে আসবে।
পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, এখন তিনটি কেন্দ্র রি-পাওয়ারিং করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঘোড়াশাল ৪ বিদ্যুেকন্দ্রে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক সঙ্গে সবকেন্দ্র রি-পাওয়ারিং করা যাবে না। পর্যায়ক্রমে অন্য কেন্দ্রও রি-পাওয়ারিং করা হবে।
